করোনার প্রভাব: স্থিমিত হয়ে পড়েছে জনজীবন আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ

আশরাফ আলী॥ সারা বিশ্বে করোনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। করোনার প্রভাবে স্থিমিত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে। জেলায় এখন পযর্ন্ত কোন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি।
২১ মার্চ শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ৩৪৩ জন। স্বাস্থ্য বিভাগ করোনায় আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য বলছে।
করোনার ভয়ে মৌলভীবাজার শহরে লোকজনের সংখ্যা কমে গেছে। করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কিছু সংখ্যক লোকজন মাস্ক ব্যবহার করছেন। অনেকেই আবার মাস্ক ছাড়া শহরে ঘুরছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক ব্যবসায়ী মাস্কের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। যা নিয়ে সৈয়দ হাসান নামের একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একটি মাস্কের দাম মৌলভীবাজার শহরের অভিজাত মার্কেট বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ১৫০ টাকা। ঠিক একই মাস্ক পাশের আরেকটি অভিজাত মার্কেট এমবি ক্লথ স্টোর বিক্রি করছে ৭০ টাকা।
এদিকে করোনাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার জন্য নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বদরুল আলম চৌধুরী নামের একজন ক্রেতা জানান, ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান চালালে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসে। তারা চলে গেলে আবার ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
আবার অনেককেই দেখা যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনার হিড়িক লাগিয়েছেন। যে যা পারছেন সাধ্য অনুযায়ী বাড়িতে পণ্য মজুত করে রাখছেন। তাদের দাবী করোনার প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে।
ভোক্তা অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারি পরিচালক মো. আল আমিন জানান, যারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরোদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রবাসীদের অনেকইে কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না। যার ফলে জেলাজুড়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন তারা । অনেক প্রবাসী দেশে ফিরেই শহরে ঘোরাফেরা করছেন। অনেকেই বা দিব্যি চা দোকানে বসে গল্প করছেন এলাকার জনসাধারণকে নিয়ে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী যেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন্তু কিছু প্রবাসী কোয়ারেন্টিন না মেনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। যার জন্য তাদেরকে গুনতে হয়েছে বড় অংকের জরিমানা। বিয়ের আয়োজন করা কমিউনিটি সেন্টারকেও সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। জনগনকে সচেতন করতে তাদের এই জরিমানা সহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬জনসহ জেলায় ৩৪৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এপর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্ত হয়েছেন ১২ জন। এদের সিংহভাগই বিদেশফেরত। এছাড়া কয়েকজন তাদের নিকট আত্মীয়ও রয়েছেন, যারা সংস্পর্শে ছিলেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ বলেন, আমরা মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছি। আমরা সংবাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, কাজ ছাড়া বাইরে বের হবেন না, ভীড় এড়িয়ে চলুন। করোনা প্রতিরোধ সরকারী নির্দেশনা মেনে চলুন।



মন্তব্য করুন