সূর্যমুখী চাষে ব্যপক সফলতা : চাষ বৃদ্ধি পেলে ভোজ্যতেলের আমদানী নির্ভরতা কমে আসবে

আশরাফ আলী : সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। চারিদিকে হলুদ বর্ণ ধারণ করে প্রকৃতিকে করেছে আরোও লাভন্যময়। যা দেখে চোখ ফিরাতে মন চায় না। এই দৃশ্য মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার আজমেরু এলাকার একটি সূর্যমুখী বাগানের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় এবছর সূর্যমুখী চাষ হয়েছে ৫৮ হেক্টর জমিতে। দুটি ভেরাইটি হাইসান-৩৩ ও হাইসান-৩৬ হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলায় এই সূর্যমুখীর চাষ।
গত বছর যেখানে সারা জেলাজুড়ে সূর্যমুখীর চাষ মাত্র ১১ হেক্টর জমিতে। কিন্তু এবছর তার ৫ গুনের চেয়ে বেশী জায়গায় সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।
সাংবাদিকতার পাশাপশি সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন দুই ভ্রাতৃদ্বয় সৈয়দ হুমায়েদ শাহিন ও এস এম উমেদ আলী।
সৈয়দ হুমায়েদ শাহিন বলেন, আগে অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান তোলার পর এই জমিগুলো পতিত থাকত। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আমরা এবছর প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছি। আমাদের এই সূর্যমুখীর চাষ অনেক মানুষ দেখতে আসছে। দেখে তারা উৎসাহ বোধ করছে এবং বলছে আগামীবছর তারা এই সুর্যমুখী চাষ করবে।

তিনি আরোও বলেন, বাজারে যে ভোজ্যতেল পাওয়া যায় সেটি মানসম্মত নয়। সূর্যমুখীর তেল অনেক ভালো। আমাদের যা প্রয়োজন তা রেখে অতিরিক্ত বীজ বাজারে বিক্রি দেব।
এস এম উমেদ আলী বলেন, মাটি এবং আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ১ম দফা আমরা ১৭ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করি। পরে আমরা আরোও ৮ বিঘা জমি বৃদ্ধি করে মোট ২৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। এটি আমাদের পরীক্ষামুলক চাষ। প্রতিটি গাছে ফুল এসেছে এবং পরিপক্ষ হচ্ছে। ফলন ভাল হবে আশাবাদী। আগামী ২ সপস্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে। সূর্যমুখী বীজ থেকে উন্নত মানের তেল হয় যা কোলস্টেরল মুক্ত।
আমাদের সূর্যমুখী বাগানে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা দেখতে আসে। অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সূর্যমুখী চাষের জন্য। তারা আমাদের কাছ থেকে এবং কৃষি অধিদপ্তরের কাছ থেকে পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি আরোও বলেন, এভাবেই যদি সবাই পতিত জমিগুলোতে কমবেশী সূর্যমুখী চাষ করেন তাহলে আমদানি নির্ভর নিম্নমানের সোয়াবিন তেল আনা অনেকটা কমে আসবে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী ২২ মার্চ সূর্যমুখী মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ফসলের অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যাবে। ভালো ফলন হবে আশাকরি। প্রতি হেক্টরে ২.৪ টন বা প্রতি বিঘায় ৮মন সূর্যমুখী বীজ পাওয়া যাবে। এতে স্থানীয় চাহিদা অনেকটা পূরণ হবে। এই সূর্যমুখী বীজ কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় করতে পারবে। বিক্রয় করার ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আমরা সহযোগীতা করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ সামছুদ্দিন (শষ্য), সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (গিয়াস নগর ইউনিয়ন) নিরোজ কান্তি রায়।
কাজী লুৎফুল বারী আরো বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোজ্য তেলের যে চাহিদা সেই চাহিদার জন্য বিদেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ হাজার ১২শ কোটি টাকার ভোজ্য তেল আমাদানি করতে হয়। আমরা সোয়াবিন তেল নির্ভর। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব তেল সরিষা এবং সূর্যমুখী এই দুটিকে লক্ষ্য করে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য কর্মসূচী নিয়েছি। আগামীবছর মৌলভীবাজার জেলায় আরো বেশী পরিমাণে সূর্যমুখী চাষ করার পরিকল্পনা আছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব।
তিনি বলেন, কৃষক ভাইয়েরা অত্যান্ত অনুপ্রাণিত হয়েছে। এবং তারা উৎসাহবোধ করছে। অনেকেই বলছে আগামীবছর তারা আরো বেশী জায়গায় এই সূর্যমুখী ও পাশাপাশি সরিষা চাষ করবে।



মন্তব্য করুন