বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ

আশরাফ আলী॥ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। তাই বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য দেয়া হচ্ছে বিশেষ নির্দেশনা। কিন্তু সরকারের সে নির্দেশনা মানছেননা প্রবাসীরা। এমনকি অনেক প্রবাসীর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ।
ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ৪ হাজার ১৮ জন ও অন্য একটি সূত্র বলেছে,৩ হাজার ২৯২ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়,১০ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত জেলায় প্রবাস থেকে ফিরেছেন ১০৮৮ জন প্রবাসী। অথচ সারা জেলায় আজ ২৪ মার্চ সোমবার পর্যন্ত মাত্র ৫৫৮ জন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহে কোয়ারেনন্টাইনে থেকে মুক্ত হয়েছেন ১৫১জন। বিদেশফেরত এসব প্রবাসীদের কারণে যেন আর সংক্রমণ না হয়। সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। প্রবাসীদের ১৪ দিন করে হোম কোয়ারান্টাইনে (বাড়িতে সঙ্গরোধ) থাকা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নির্দেশনা না মানলেই করা হচ্ছে জেল জরিমানা।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, গোয়েন্দাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে। এসব প্রবাসীরা কোনভাবেই যেন সরকারি নির্দেশনার বাহিরে এসে লোক সমাগমে মিশতে না পারেন, কারো সংস্পর্শে না যান এজন্য প্রশাসন কঠোর নজরদারিতে রেখেছে তাদের।
তবে সবাইকে যে সঙ্গরোধে রাখা যায়নি সে তথ্যটি অস্বীকার করছে না পুলিশ। পুলিশ বলছে, এজন্যই নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ বলেন, আমরা মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছি। আমরা সংবাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, কাজ ছাড়া বাইরে বের হবেন না, ভীড় এড়িয়ে চলুন। করোনা প্রতিরোধ সরকারী নির্দেশনা মেনে চলুন।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বলেন, পুলিশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি সদ্য বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, আগামীকাল থেকে মাঠে সেনাবাহিনী নামবে। সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে প্রবাসীদের নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করা হবে। যারা কথা শুনছেন না প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে গিয়ে তাদের জেল-জরিমানা করা হবে।



মন্তব্য করুন