নোংরা বেড, মশার উপদ্রব, বিদ্যুৎ নেই, রাত জেগে থাকতে হয় : প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নামে সুস্থ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে

March 27, 2020,

স্টাফ রিপোর্টার॥  প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নামে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইেটে ফেরেন সিলেট বিভাগের এক প্রবীণ সাংবাদিক। সরাসরি বিমানটি সিলেটে নামার কথা থাকলেও ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্ত:জার্তিক বিমান বন্দরে প্রথমে নামে। পরে সেখান থেকে ৪/৫জন যাত্রী নামিয়ে আসে সিলেটের ওসমানী বিমান বন্দরে। বিমানের ভেতর থাকা অবস্থায় সিলেট এয়ারপোর্টের কর্মকর্তারা যাত্রীদের কাছে চান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয় এমন প্রত্যয়নপত্র। অধিকাংশ যাত্রীরা জানান করোনা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র কে দেবে তাদের এ বিষয়টি জানা নেই। পরে বিমান থেকে যাত্রীদের নামিয়ে রানওয়ের ভেতর খোলা আকাশের নীচে প্রচন্ড রোদে প্রায় ১ ঘন্টার অধিক সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এর পর নিয়ে আসা হয় ইমিগ্রেশনের জন্য ভেতরে।
প্রবীণ সাংবাদিকের শরীরে ৯৯ ডিগ্রি জ্বর পাওয়া যায়। তাকে বলা হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সাথে থাকা তার স্ত্রীকে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকতে বলা হয়। তিনি রাজী হন। নেওয়া হয় সিলেট শহীদ ডাঃ শামসুদ্দীন আহমেদ জেনারেল হাসপাতাল। তিনি মোবাইল ফোনে তার সহকর্মী সংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের যে কক্ষে তাকে নিয়ে রাখা হয় সেটি মানুষ বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপোযুগী। ফেন নেই, বিদ্যুৎও নেই, নেই কোন বাথরুম, বেডে নোংরা কভার, যে বালিশ দেওয়া হয়েছে সেটা মাথা রাখার মতো নয়, ডাক্তার কিংবা সেবিকা কেউ নেই। আবার মসার উপদ্রব।
এই অবস্থায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পার হবার পর তিনি যখন কর্মরত গার্ডকে ডেকে হাসপাতালের কাউকে আনতে বললেন; গার্ড একজনকে ডেকে আনলো। তার কক্ষ পরিবর্তন করে দেওয়া হলো অন্য আরেকটি কক্ষে। সে কক্ষে বিদ্যুৎ আছে; কিন্তু বাথরুমে বেসিন নোংরা, বালতি ব্যবহার উপযোগী নয়, মশা ভন ভন করছে। মশা থেকে বাঁচতে তিনি পুরো রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। রাতে কোন চিকিৎস কিংবা নার্স কেউ তার খবর নেয়নি।
শুক্রবার ২৭ মার্চ সকালে ফোনে কথা হলে জানান দীর্ঘ ১১ ঘন্টা বিমানে কোন বিশ্রাম হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ভেতর মশা ও নোংরা পরিবেশের কারনে রাত জেগে কাঠাতে হয়। সকালে একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য মুখ ধোয়ার মতো পানিও নেই।
২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার এই ভোর পর্যন্ত তাকে কোনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। ‘এখন তো আমার কোনো জ্বর নেই, প্রচন্ড রোধে রাখার কারণে একটু বেড়ে ৯৯ ডিগ্রি জ্বর হয়েছে। আমাকে এখানে রেখে তারা কি করবে, সেটাও কিছু বলছে না। আমি একজন সুস্থ মানুষ তাদের এই পরিবেশ আমাকে অসুস্থ করে দিচ্ছে। হাসপাতালের নামে কয়েদখানায় রেখে তারা তো আমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা কি আমাকে মারার জন্য এখানে এনেছে? আমি তো বাসায় ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকতে পারতাম।’
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রক্ত নিয়েছেন। চিকিৎকও এসেছেন। রক্ত পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিবে, না আমাকে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ দিবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা। পর দিন ২৮ মার্চ রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। এর পর ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকার কথা বলা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com