শ্রীমঙ্গলে হার্ড লাইনে পুলিশ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মৌলভীবাজার জেলায় লকডাউন কার্যকরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। এনিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রবেশমূখে চেকপোষ্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাসী জোরদার করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে মৌলভীবাজার জেলা লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষনা করে জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশনা জারী হরা হয়। লক ডাউন কার্যকরে মাঠে নামে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের কাচা বাজার রেলওয়ে মাঠে স্থানান্তর, দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা, জীবাণুনাষক ওষুধ ছিটানো, হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনা কার্যকর, এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টীম গঠন, বহিরাগতদের আগমন তদারকিসহ করোনা ভয়াবহতা নিয়ে মানুষের মধ্যে জনসচেতনা সৃষ্টিতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে লক ডাউন ভেঙ্গে হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ এর নামাজে জানাজায় হাজারো মানুষের অংশ নেয়ার ঘটনায় সারাদেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এরি মধ্যে সরাইল থানার ওসি ও এএসপি (সার্কেল) কে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমূখে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে চেকপোস্ট বসিয়ে সব ধরণের যানবাহন থামিয়ে তল্লাসী চালানো হচ্ছে। মুছাই শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা সীমান্ত এলাকা।
রোববার দুপুরে সরেজমিন এই স্থান পরির্দশনে গেলে দেখা যায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসির আব্দুছ ছালেক, ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা, ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকূন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চেকপোষ্ট তদারকি করছেন। পুলিশ সদস্যরা নিত্য প্রয়োাজনীয় পণ্য ও ঔষষের গাড়ী থামিয়ে তল্লাসী করছেন। জরুরী পরিষেবার আওতাভুক্ত নয় সিএনজি অটো রিক্সাসহ এমন অনেক যারবাহন ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসময় অনেক কাভার্ড ভ্যান এর দরজা ও পিকআপ ভ্যানের ত্রিপল খুলে তল্লাসী করছেন।
এসময় শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, লক ডাউন কার্যকর ও সরকারী নির্দেশনা প্রতিপালনে প্রবেশমূখে তল্লাসী চালানো হচ্ছে। জরুরী পরিষেবা বহির্ভুত বহিরাগত কোন ব্যক্তি বা যানবাহন শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ বা বাহির হতে দেয়া হবে না। যে কোন মূল্যে আমরা লক ডাউন কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, অতিরিক্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সড়কে চলাচলকারী সব ধরনের যাবাহনের চালকদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কারো শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।



মন্তব্য করুন