শ্রীমঙ্গল শেখবাড়ী জামিয়ায় দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া মাদানিয়া শেখবাড়ি মাদরাসায় (জামেয়া মাদানিয়া ক্বওমিয়া এম এ জব্বার কমপ্লেক্স) নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ জামাত দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) বিভাগ চালু করা হয়েছে।
৬ শাওয়াল ২৯ মে থেকে দাওরায়ে হাদিসসহ হিফজ ও নূরানি বিভাগের সকল জামাতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে ১০ শাওয়াল (২ জুন) পর্যন্ত ভর্তি চলবে। ১১ শাওয়াল (৩ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রম (ইফতিতাহি দরস) শুরু হবে।
ইফতিতাহি দরস প্রদান করবেন, শেখবাড়ি জামিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, পীর সাহেব-বরুণা।
শেখবাড়ি জামিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী জানান-কওমি মাদরাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ শাওয়াল মাস থেকে শুরু হয়। নতুন শিক্ষা বছরের শুরু (মে ২০২০) থেকে শেখবাড়ি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (এমএ) জামাত চালু করা হয়েছে। এবছরের মিশকাত জামাতের শিক্ষার্থীসহ সম্মানিত অভিভাবকদের চাহিদা ও আবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী ঘোষণা দেন নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে দাওরায়ে হাদিস খোলা হবে। অভিভাবকরা প্রতি বছরই আমাদের কাছে জোরালোভাবে অনুরোধ করেন দাওরায়ে হাদিস বিভাগ চালু করার জন্য। অনেক অভিভিবকরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, নূরানি প্রথম শ্রেণি থেকে নিয়ে মিশকাত জামাত পর্যন্ত ১৪ বছর আমাদের সন্তানরা শেখবাড়িতে পড়াশোনা করে, কিন্তু শুধু দাওরায়ে হাদিস পড়ার জন্য এক বছরের জন মাদরাসা স্থানান্তর করা আমাদের জন্য কষ্টকর, আমরা চাই এক মাদরাসা থেকেই আমাদের সন্তানরা প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করে সর্বোচ্চ পড়াশোনা টাইটেলও শেষ করুক। অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্খীদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আমরা শেখবাড়ি জামিয়ায় এ বছর থেকে দাওরায়ে হাদিস (টাইটেল ক্লাস) চালু করি।
শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে এক বৈচিত্রময় রুপদানকারী এক অনন্য প্রতিষ্ঠান শেখবাড়ি জামিয়া। একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য ও দক্ষরুপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বমহলে জামিয়ার সুনাম রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্রেফ ধর্মীয় গন্ডিতে আবদ্ধ না রেখে সর্বমহলে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন নিষ্টাবান কর্মঠ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে জামিয়া বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের ইলমী পিপাসাকে নিবারন করতে নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য জামিয়া নিয়োগ দিয়েছে একঝাঁক নিষ্টাবান মেধাবী আলেম। ইলমের অঙ্গনে প্রত্যেকেই যেন একেকটি সুরাইয়া তারকা। দরসে হাদিসকে প্রাণবন্ত করে তুলতে এ বছর জামিয়ায় নিয়মিত দরস দিবেন
মুসলিহে উম্মাহ শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, পীর সাহেব বরুনা।
শেখবাড়ি জামিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী ও হাফিজ মাওলানা শেখ সাদ আমীন বর্ণভীর দক্ষ পরিচালনায় শেখবাড়ি জামিয়া পড়ালেখার মানদন্ডে ইতোমধ্যে জেলায় বেশ ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ জামিয়ায় রয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একঝাঁক দক্ষ কর্মতৎপর মেধাবী শিক্ষক। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে যাদের রয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। আরবি, উর্দু, ফার্সি, ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক রয়েছেন। এ যাবত জামিয়ার অর্জিত সকল সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেহনত। শেখবাড়ি জামিয়ায় দাওরায়ে হাদিস চালু করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্খীমহল বেশ খুশি।
শেখবাড়ি জামিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী জানান-করোনা সংক্রমণ রোধে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো শেখবাড়ি মাদরাসাও বন্ধ থাকায় আমরা দাওরায়ে হাদিস খোলার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে পারিনি। তবু আলহামদুলিল্লাহ, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে শুধু দাওরায়ে হাদিসে ভর্তি হওয়ার জন্য ২২ জন ছাত্র আমাদের সাথে যোগাযোগ বরেছেন। আশা করি দাওরায়ে হাদিস বিভাগে প্রথম বছরে প্রচুর সাড়া পাবো। দাওরায়ে হাদিস বিভাগে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান ইসলামী স্কলার, বরেণ্য আলেম, শায়খুল হাদিস, নবিন-প্রবীণ অনেক মেধাবী ও যোগ্যতা সম্পন্ন আলেমরাও দরস দিবেন।
তিনি জানান দাওরায়ে হাদিস জামাতে অনিয়মিত (দেশে সফর থাকাকালীন) দরস দিবেন ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ও সফর একাডেমি ইউ কে এর প্রিন্সিপাল, বিশ্ববিখ্যাত দাঈ, বিদগ্ধ গবেষক ও দার্শনিক শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ হাসান আলী, জামিয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার সিলেট এর শায়খুল হাদিস ও শিক্ষাসচিব আল্লামা শফিকুর রহমান, শায়খলু হাদিস মুফতি মিযানু রহমান কাসেমী, মাওলানা আবু সাফওয়ান মুহাম্মদ জুনাইদ, দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী ঢাকার আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের (আদব) সাবেক মুশরিফ মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন প্রমুখ।



মন্তব্য করুন