শ্রীমঙ্গলে ঘুর্ণিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্থ : ক্ষতিগ্রস্থরা খোলা আকাশের নিচে

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলের উপর দিয়ে বয়েগেছে ঝড়ো হাওয়া ও ভারি শিলাবৃষ্টি। এতে আংশিক ও সম্পন্ন মিলিয়ে প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগস্থ হয়েছে। অন্য দিকে শিলা বৃষ্টিতে লেবু, আনারস, পান, বিভিন্ন সবজী ও আমের মুকুলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় ঘর ভেঙ্গে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এদিকে বাড়িঘর হাড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন অনেক পরিবার।
শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি ও তার সাথে আসে ঘূর্ণিঝড়। এতে তার ইউনিয়নের ৪/৫টি গ্রামে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগস্থ হয়েছে। বিভিন্ন জায়াগায় ভেঙ্গে পড়েছে শত শত গাছপালা। চা, লেবু, পানসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজীর ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
সিন্দুরখান ইউনিয়নের ১নং ওয়াডের ইউপি সদস্য নোয়েল আহমদ জানান, ভোররাতে এ ঘুর্নিঝড়ে ও শিলা বৃষ্টিতে তার ৩নং ওয়ার্ডের লাহার পুর, খিলগাও, কারুমাঝি বস্তি, বিহারী বস্তি, চানমারী বস্তিসহ ৫টি গ্রামের দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পুর্ন ক্ষতিগস্থ হয়েছে।
একই ভাবে সিন্দুরখান ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফুলমিয়া জানান, তাঁর ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগস্থ হয়েছে।
এ ব্যপারে সাতগাও বাজারের পল্লি চিকিৎসক ও মৌলভীবাজার পল্লি বিদুৎ সমিতির পরিচালক ডা: আব্দুল আজিজ জানান, এ ঘুর্ণি ঝরে বাড়িঘর ভেঙ্গে ও গাছ পড়ে অন্তত ১৫জনকে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এর মধ্যে গান্ধিছড়া চা বাগানের দুই শ্রমিককে শ্রীমঙ্গল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল রাজঘাট চা বাগানের সেলিম হক জানান, তাদের বাগানের অর্ধশতাধিক শ্রমিকের ঘরের টিনের চাল শিলা বৃষ্টিতে ছিদ্র হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়েগেছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ঘর্নিঝড়ে বিভিন্ন এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।
তিনি জানান ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছে ক্ষতিগস্থতের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা আসলে কাছাকাছি সময়েই ক্ষতিগস্থদের সহায়তা করা হবে।



মন্তব্য করুন