শ্রীমঙ্গলে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে জীবনের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী রমেশ রাম গৌড়ও তার পরিবার।
রোববার ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে শহরের সাগরদিঘী রোডস্থ শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রমেশ রাম গৌড় বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক চা খেতে আসে। ব্যবসা-পাতি ভালো চলের দেখে এলাকার আলাউদ্দিন ভূঁইয়া নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর কাছে অনেক দিন ধরে ধারে টাকা চায়। তিনি কখনও দেন কখনও দেন না। কিছুদিন আগে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে রমেশ রামগৌড় এর উপর বিরাগভাজন ছিলেন আলাউদ্দিন তার পরিবার। গত ১৭ মার্চ আলাউদ্দিনের বাসা থেকে একটি মুরগীর বাচ্চা ধরে একটি বিড়াল রমশের বাসায় প্রবেশ করলে রমেশের গেইটে এসে বারাবারি শুরু করে। এক পর্যায়ে রমেশের ছোট ভাই মানিক রামগৌড় এর স্ত্রী বেড়িয়ে আসলে তারা তার সাথে অশালীণ আচরণ করে।
তারা চলে যাওয়ার পর এ বিষয়ে মানিক রাম গৌড় আলাউদ্দিন ভুঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে তার অশ্লীল আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন ভুঁইয়া ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য প্রায় ৫-৬ জন মিলে মানিক রাম গৌড়কে বেধরক পেঠায়। খবর পেয়ে রমেশ রামগৌড় এলাকাবাসীর সহায়তায় আলাউদ্দিনের বাসা থেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার আহত এর পরিমান অনেক বেশি হওয়ায় শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ঘটনার পর পরই তিনি শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পুলিশ হাসপাতলে তাকে দেখেতে গিয়েছে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছে।
এদিকে তার অবস্থা আরো খারাপ হলে সোমবার সকালে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান রমেশ রামগৌড়। রমেশ রামগৌড় জানান, আলাউদ্দিন ভঁইয়া পেশায় একজন গাড়ী চালক। ঘটনার আজ কয়েক দিন অতিবাহিত হয়েছে। আমার ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়া দৌড়ি করছি। ইতিমধ্যে পরিবহন শ্রমিক নেতা, পুলিশ প্রশাসনসহ অনেকেই তার ভাইকে দেখে এসেছেন। কিন্তু আলাউদ্দিন ভূইয়া বা তার পরিবারের কোন লোক একবারের জন্যও খোঁজ নেয়নি। বাধ্য হয়ে রবিবার রাতে তিনি শ্রীমঙ্গল খানায় মামলার জন্য এজহার দিয়েছেন।
এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালেক জানান, তারা অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
এ ঘটনার বিষয়ে আলাউদ্দিন ভুঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে এ বিষয়ে তাদের সংগঠনের (পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন)চেয়ারম্যান ময়না মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রমেশ রামগৌড় এর ছেলে রাজু রাম গৌড়, আহত মানিক রাম গৌড়ের স্ত্রীসহ এলাকার প্রায় ১৫/২০জন লোক উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য করুন