গেটে তালা লাগিয়ে রাস্তা বন্ধ, ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : কমলগঞ্জের একটি চা বাগানের রাস্তায় গেট বন্ধ করে দেয়ার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে ১০ থেকে ১২ টি গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে সিজন টাইম হওয়ায় বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে ওই এলাকার বাগান মালিকরা। ওই রাস্তা দিয়ে এলাকার বাগান মালিকরা আনারস, লেবু, কাঁঠাল, কলা, নাগা মরিচ ইত্যাদি ফসল নিয়ে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে নন্দরানী চা বাগান কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারনে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে এসব মানুষ।
বুধবার ২৬ মে দুপুরে সরোজমিনে এলাকায় গেলে ওইসব এলাকার মানুষজন বলছেন তারা তাদের জন্মের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে আসছেন, কোনদিন বাধার সম্মুখীন হয়নি, হঠাৎ করে কেন চা বাগান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাও তারা কিছু জানেন না।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নন্দরানী চা বাগানটি পড়েছে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়। আর এর দুইপাশে রয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। গেইটের একদিকে জঙ্গল বাড়ি, হোসনা বাদ, বিলাশ ছড়া, হোসনাবাদ ৬ নং ১১নং ও ১২ নং খাসিয়া পুঞ্জি, হাফরা ছড়া ইত্যাদি ওপর পাশে মহাজিরাবাদ, বিষামনী, বালিশিরা খাসিয়া পুঞ্জি, রাধানগর ডলোবাড়ি, বেগুন বাড়ি দিলবর নগর, ইত্যাদি গ্রাম। পাহাড়ি এই এলাকাগুলোতে লেবু আনারস, নাগামরিচ, কাঁঠাল, পান ইত্যাদি চাষাবাদ হয়ে থাকে। তিন বছর আগেও এখানে কোন গেইট ছিলো না। গত আড়াই বছর আগে এখানে নন্দরানী চা বাগান কর্তৃপক্ষ একটি গেইট নির্মান করে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নন্দরানীর এই গেইট দিয়ে চলাচল করেন।
লেবু ও আনারস বাগান মালিক আবু সাঈদ ও আব্দুল হান্নান বলেন, চা বাগান কর্তৃপক্ষ রাস্তার গেটে তালা মেরে যাতায়াতে বাধা দেওয়ার কারণে বাগান মালিকরা বাগানে যাওয়া আসা এবং বাগান থেকে ফসল কেটে বাজারে নেওয়া নিয়ে বিরাট সংশয় দেখা দিয়েছে, এতে তারা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলেও জানান।
এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাস্তাটি তাদের নিজস্ব, তাই তারা এ রাস্তা দিয়ে সপ্তাহে ৫ দিন যাতায়াত করতে দিবে, এবং সপ্তাহে বুধবার ও সোমবার দুই দিন রাস্তাটি বন্ধ রাখবে। রাস্তাটি দুইদিন কেন বন্ধ রাখবে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, যে স্থানে তালা লাগিয়ে গেট বন্ধ করা হয়েছে গেটের অবস্থান কমলগঞ্জ উপজেলায় পরেছে, কিন্তু গেটের দুই পাশের ৮/১০ এলাকার মানুষজন হচ্ছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার। বিশেষ করে ওই সব এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য একটিমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে, সেটি মোহাজেরাবাদ গ্রামে। ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ওই গেট দিয়ে চলাফেরা করেন, ওই স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি মাত্রই রাস্তা।
নন্দরানী চা বাগানে হেড ক্লাক পংকজ দাস বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক সপ্তাহে দুই দিন এই রাস্তায় চলাচল করা যাবে না। বাকি ৫দিন সবাই এই রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। এটা বাগানের নিজস্ব রাস্তা। তাদের কথামতোই চলতে হবে। আমরা বাগানে চাকুরী করি, আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয় আমরা সেটা মেনে চলি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নন্দরানী চা বাগানের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ এর মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। যেহেতু এই রাস্তা দিয়ে জরুরী কৃষি পন্য লেবু, আনারস ইত্যাদি নিয়ে আসা হয় সেহেতু বাগান কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে এ ধরনের সীদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এই এলাকার বাসিন্দারা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবো।



মন্তব্য করুন