শ্রীমঙ্গল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান

May 27, 2021,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদায় নিলেন। শ্রীমঙ্গলে কর্মক্ষেত্রে রেখে গেছেন স্মরণীয় অনেক অবদান। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পার করেছেন এ জেলায়। কর্ম ক্ষেত্রে দায়িত্ব ছিল এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুই উপজেলা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের। কাজে যার বিন্দুমাত্র কার্পণ্যতা ছিল না। কর্ম প্রিয় মানুষটি সকলের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রেখে শান্তি-শৃঙ্খলার ও জানমালের নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন অবিরাম। প্রত্যেক অফিসার’কে কাজ করিছেন অনেক, তবে ধমক দিয়ে নয়, ভাল আচরণ দিয়ে। কাজ আদায়ও করেছেন শতভাগ।
বাংলাদেশ পুলিশে এক অন্যরকম অফিসার, যার মধ্যে ছিল অপার মানবিকতা। মার্ডার থেকে শুরু করে অনেক মামলার কাজে যিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেকটি কাজে সফলও হয়েছেন খুব দ্রুত। এটা ছিল ওনার যোগ্যতা ও আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানি। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের আয়োজনে আজ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি লাভ ও বদলিজনিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তটা ছিল আনন্দ ও বেদনার। আনন্দ ছিল পদোন্নতি লাভে, বেদনা ছিল বদলি জনিত বিদায়ে। মানুষটির প্রতি অনেক ভালবাসা, শ্রদ্ধা অনেক মায়া ছিল শ্রীমঙ্গল থানার প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তা কর্মচারীর হৃদয়ে। তাদের বক্তব্যে এর প্রতিফলন ঘটেছে।
অনেকে আক্ষেপ করে বলেছে বাংলাদেশ টা খুব ছোট যদি আল্লাহ্ পাক ভাগ্যে রাখে আবারও প্রিয় স্যারের সাথে কাজ করার সুযোগ হতে পারে। আর সেটাই যেন হয়। থানার আয়োজনে বেশ পরিপাটি একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুছ ছালেক। প্রিয় এই ব্যক্তিকে সংবর্ধনা জানাতে শ্রীমঙ্গল থানার সকল অফিসারও ফোর্স উপস্থিত ছিলেন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাহসিকতার সাথে তারা হলেন, থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির এবং ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন। যে মানুষটির আজ বদলিজনিত সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে অনেক কাজ করার সুযোগ হয়েছিল মানুষটির সাথে। তিনি ছিলেন সাংবাদিক বান্ধবও। প্রতিটি কাজে সাড়া দিয়েছেন আন্তরিকতার সাথে। কথায় আছে চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল। কথাটি চরম সত্য। তবে এবেলায় একটু ভিন্নতা আছে, এই মানুষটিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মানুষ ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারবেনা। এর একটি বড় কারণ করোনা মহামারী। উপজেলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে নিজের সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ ও ভালবাসা দিয়ে। অনেক মানুষ যখন করোনা মহামারীতে ঘরের ভেতর এই মানুষটি থানার প্রতিটি অফিসার কে নিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। ছুটে গেছেন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতেও। কিভাবে ভুলবে এ উপজেলার মানুষ এই মানুষটিকে। অনেক কথা বলেছি তবে মানুষটি সম্পর্কে এ যেন অনেক স্বল্প। এই মানুষটি বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব আমরা আশা করি এবং আমাদের বিশ্বাস বাংলাদেশ পুলিশকে বিশ্বের দরবারে এক মর্যাদার স্থানে পৌঁছে দেবে নিজের সৎ ও যোগ্য কর্মকাণ্ড দিয়ে।
দোয়া ভালবাসা ও নিরন্তর শুভ কামনা রইল, ভাল থাকুন প্রিয় মানুষ, বহুদিন বেঁচে থাকুন এই সুন্দর পৃথিবীতে, মানুষের যেন হয় কল্যাণ , হৃদয়ে নামটি যেন লিখে রাখে আপনার কর্মে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com