মৌলভীবাজারে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার কর্মবিরতি প্রথ্যাহার করে ফের আন্দোলনে চা শ্রমকিরা

August 22, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ চা শ্রমিকদের ধর্মঘট আরো বয়াল রূপ ধারণ করেছে। গেল শনিবার চা শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে নতুন মজুরী সহ দিক নির্দশেনা দেয়া হয়। এতে শ্রমিক নেতারা মেনে নিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
পরে সন্ধ্যায় আরেক গ্রুপের একাংশরা দৈনিক মজুরি ৩শ টাকা ছাড়া ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেনা বলে আন্দোলন চালিয়ে যাবার হুশিয়ারী দিলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে উঠে। রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ চা বাগানে গেলে, চা শ্রমিক বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি দুলাল বাকতি,সাধারণ সম্পাদক বিমল গরাই ও অর্থ সম্পাদক দিপক কৈরি জানান, ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাদের নেতাদের দৈনিক মজুরী ১৪৫ টাকা মানতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে যে আশ^াস দেয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের চা শ্রমিক কেন্দ্রিয় নেতারা কারো মাধ্যমে জেনেছেন। সরাসরি কোন বার্তা তারা পাননি। এজন্য তারা ফের আন্দোলনে লিপ্ত রয়েছেন।
এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটে মৌলভীবাজার জেলায় চা ফ্যাক্টরীর দৈনিক ক্ষয়ক্ষতির একটা পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। শ্রমিক ধর্মঘটে মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে। জেলার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগান ম্যানাজার মোঃ লোকমান চৌধুরী রোববার জানান, উত্তরভাগ চা বাগানে প্রতিদিন ৩০/৩৫ হাজার কেজি কাচা চা উত্তোলন করে শ্রমিকেরা। এই কাঁচা চা রিফাইন করে পান করার উপযোগী হিসেবে প্রতিদিন ৮ হাজার কেজি চা ফ্যাক্টরি থেকে বের করা হয়। এতে তাদের ফ্যাক্টরি থেকে কেজি প্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার চা বিক্রি করা হয়। চা শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে ওই বিশাল টাকার বিরাট অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট বাগান ব্যবস্থাপকদের মতে জেলার ৯২ টি চা বাগানে এই হিসেবে প্রতিদিন ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে। সব মিলিয়ে গেল ৯ দিনের কর্ম বিরতিতে লোকসান হচ্ছে ১৩২৪৮০০০০০/- টাকা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com