৩শ টাকা মজুরী দিতে হবে, নইলে বুকে গুলি মারতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানে শ্রমিকরা ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘটের ১৬ তম দিনে অনেক বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। ২৪ আগস্ট বুধবার সকাল থেকে চা বাগানগুলো নিরব থাকলে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেশ কয়েকটি বাগানে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। অনেকেই বাগানের বাহিরে এসে সড়ক অবরোধ করেন। আবার অনেক শ্রমিকরা চা বাগানে ফ্যাক্টরি সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। জুড়ী ভ্যালীর আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা জুড়ী চৌমোহনায় আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদী পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল চালায়। সড়ক অবরোধ থাকা শ্রমিকরা স্লোগান দেয় ৩শ টাকা মজুরী দিতে হবে নইলে বুকে গুলি মারতে হবে। এসময় আঞ্চলিক মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলিতেও যানজট লেগে যায়। চরম দূর্ভোগ পোহান যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।
অপরদিকে জুড়ীতে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জুড়ীতে আসা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন,এমপি। চা শ্রমিকদের অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির সভা শেষে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি চা শ্রমিকদের সান্তনা দিয়ে বলেন আপনারা জীবনভর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে ভালোবেসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার সরকার বাগানের অনেক শ্রমিককে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এছাড়াও বাগানের শ্রমিকদের তালিকা করে প্রতিবছর ৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। যা অন্য কোন সরকার দেয়নি। আপনাদের ছেলে মেয়েরা আজ আর শুধু চা শ্রমিক নয় তারা এখন দেশ পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে। কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে বক্তব্য প্রধানকালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন এখানে আসার পথে গাড়িতে বসেই প্রধানমন্ত্রীর সচিবের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের সাথে কথা বলবেন। আশা করি আপনাদের সমস্যার সমাধান হবে। তবে শ্রমিকরা জানান তারা তিনদিন অপেক্ষা করবেন। কিন্তু বাগানে কাজে যাবেননা।
এসময় শ্রমিকরা মন্ত্রীর এক নেতার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে তাদের দু:খ ও ক্ষোভের কথা যানান। শ্রমিকরা শ্লোগান দেন ৩শ টাকা মজুরী দিতে হবে নইলে বুকে গুলি মারতে হবে। জেলার সাধারণ চা শ্রমিকরা জানান প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তারা কিছুতেই কাজে ফিরবে না।
সকাল ১১টা দুপুর ১টা পযর্ন্ত ২ ঘন্টা মাজদিহি এলাকায় ভৈরববাজার-কমলগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সাধারণ চা শ্রমিকরা। বাংলাদেশ টি বোর্ডের দেওরাছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে প্রেম নগর এলাকায় এলজিইডির সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
পরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বাগান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের মোকামবাজারে মিছিল পথসভা কেরে।
অপর দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও চা বাগানে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে চা শ্রমিকরা। এসময় দুইপাশে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়। পরে ইউএনও এর আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভিন্ন বাগানে গিয়ে পাঞ্চায়েত কমিটির সাথে বৈঠক করে কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির বিষয়ে প্রথম দফা ঢাকায় বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক, পরে শ্রীমঙ্গল শ্রম দপ্তরে এবং সর্বশেষ রোববার মধ্যরাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ৮ জন শ্রমিক নেতৃবৃন্ধ মেনে নিয়ে প্রশাসনের সাথে যৌথ স্বাক্ষর করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। পরে তারা সাধারণ শ্রমিকের চাপে তা প্রত্যাখান করেন।
উল্লেখ্য গত ৯ আগষ্ট থেকে শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরীর দাবীতে ধর্মঘটে নামেন। এর পর ১৩ আগষ্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস চা শ্রমিকরা মানববন্ধন, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল,রেলপথ ও মহা সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেন। ১৪ ও ১৫ আগষ্ট ২ দিন স্থগিত থাকার পর এ পর্যন্ত পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করে আসছে চা শ্রমিকরা।




মন্তব্য করুন