আন্দোলন শিথিল করে গণভবনের দিকে চোখ চা শ্রমিকদের

বিকুল চক্রবর্তী॥ মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে টানা ১৮দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন দেশের ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা। এরই মধ্যে ঘোষনা আসে শনিবার গণভবনের চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয় নিয়ে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সাথে বসছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ সংবাদ শোনার পর মৌলভীবাজাররের ৯২টি চা বাগানে শুক্রবার কোন আন্দোলন করেনি চা শ্রমিক। তবে কর্মবিরতি অভ্যাহত আছে।
এখন চা শ্রমিকদের দৃষ্টি গণভবনের দিকে। তাদের ধারণা মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য একটা সুফল এনে দিবেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল কালিঘাট চা বাগানের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য অনিল তন্তবাই জানান, আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে আছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দু:খ দুর্দশার কথা জানেন। আমরা ২শ বছর ধরে যে জায়গায় বসবাস করছি সে জায়গার ভূমি অধিকার আজও আমরা পাইনি। সব বাগানে এখনও স্কুল হয়নি।
শ্রীমঙ্গল আমরইল চা বাগানের চা শ্রমিক জনিস জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাদের শেষ ভরসার স্থল। প্রধানমন্ত্রীর দিকেই এখন আমরা তাকিয়ে আছি। তিনি বলেন, তাদের বিশ^াস শনিবারের মিটিংএ প্রধানমন্ত্রী তাদের নিরাশ করবেন না।
শ্রীমঙ্গল কালাপুর ইউনিয়নের ফুলছড়ি চা বাগানের বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি লক্ষন বাউরি জানান, আমরা আন্দোলন করছি আমাদের পেটের দায়ে। আমাদের যে মজুরি দেয়া হয় তা থেকে কারেন্ট বিল, রেশন, ভবিষত তহবিল ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদা সব কিছু কেটে নগদ হাজরি দাড়ায় ১০০ টাকারও কম। কিছু শ্রমিক আছেন যারা ভরা মৌসুমে পাতা একটু বেশি তুলতে পারেন অভার টাইম হিসেবে তারা ১০০ টাকার চেয়ে আরো কিছু বেশি পান। কিন্তু নগদ টাকা এটাই এই টাকা দিয়েই দৈনন্দিন সকল চাহিদা পুরণ করতে হয়। ছেলে মেয়ের লেখা পড়া, কাপর, মাছ সবজি, তেল লবন, ডাল সবই। এটা কি করে সম্ভব তাই চা শ্রমিকদের প্রতিদিনই “তেল আনতে নুন পুরায়”। টানপুরণেই চলে সংসার।
তিনি বলেন ২ টাকা কেজিতে আটা দেয়া হয় যা সকালে চা র”টিতেই চলে যায়। দুপুরে ও বিকেলে ভাত রান্না করলে ৪/৫ জনের একটি পরিবারে দুই কেজি চাল লাগে। চালের দামেই দৈনিক হাজরি চলে যায়। বাদবাকী কিভাবে সামাল দেয় চা শ্রমিকরা সে খবর কেউ রাখে না। তিনি বলেন, আমি আশাবাদী আমাদের নেত্রী বাস্তবতা নিরিক্ষে আমাদের মজুরিসহ অনান্য সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিবেন।
এ ব্যাপারে চা শ্রমিক ছাত্র যুব অংশে নেতৃত্ব দেয়া মোহন রবি দাশ বলেন, আমাদের কর্মবিরতি অভ্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু শনিবার এ বিষয়ে বসবেন তাই শনিবার দেখে আমরা নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করবো।



মন্তব্য করুন