মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ধানের শীষের ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে…
স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন পর কাঙ্খিত ভূমিধস বিজয় পেয়েছে ধানের শীষ। জেলার সবক’টি আসন পুনরুদ্ধার হওয়ায় এখন উৎফুল্ল বিএনপির নেতাকর্মীরা। জামায়াতের আমীর ডা: শফিকুর রহমানের নিজ জেলা ও উপজেলায় ধানের শীষের এমন অভূতপূর্ব বিজয়কে অন্য ভাবে মূল্যায়ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন এই ফলাফল এজেলায় জামায়াতের রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও বার্তা। এই ফলাফলে বিএনপি তার সাংগঠনিক অবস্থানকে আরও সুসংহত ও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে গেল।
জেলার ৩টি আসনে জামায়াত ও ১টিতে জামায়াত জোটের পরাজয় চায়ের রাজ্যে ভোটের রাজনীতিতে যা একটি স্পষ্ট বার্তা। ভোটের প্রচার প্রচারণায় জামায়াত, বিএনপি ও তাদের জোট ভোটের মাঠে তৃণমূলে তাদের জনসমর্থন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ছিলেন। এনিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় সরব ছিলো তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
চূড়ান্ত ফলাফলে জেলার ৪টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে উজ্জীবিত বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরু থেকে হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারে মাঠে সক্রিয় ছিলো বিএনপি। তারেক রহমানের নতুন দেশগড়ার বার্তা আর বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে তারা মাঠে ভোটারদের কাছে পৌঁছান। এমন বার্তা পৌঁছে দিয়ে তারা ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছেন। ভোটাররা তাদের এই বার্তাকে মূল্যায়ন করেছেন এজন্য এই প্রত্যাশিত সফলতা এসেছে। এমনটি বলছেন এমন বিজয়ে উজ্জীবিত দলের জেলা, উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আইনপুরের মাঠে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ২য় নির্বাচনী জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সমাবেশে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আহবান জানান। ওই জনসভায় তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলেন আগামীতে আপনাদের জেলায় আসব যদি আপনারা আমাদেরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন। ইনশাআল্লাহ তখন কাঙ্খিত উন্নয়ন নিয়ে আপনাদের সামনে আসা হবে কথা হবে। এমন প্রতিশ্রুত তিনি দেন। দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত এজেলাবাসী তার এই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হন। তার দেশ গড়ার প্রত্যয় ও অঙ্গীকারে জেলাবাসী মুগ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে সম্মান জানান। প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে বিজয় পায় বিএনপি। এমনটি বলছেন স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরা।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা মিলে মোট ১১৪টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ৯৮,২৭৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত) প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৮,২১৪টি। মোট ব্যবধান ছিল ২০,০৬৩ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ পেয়েছে ১০,৪৬৯ আর না পেয়েছে ৭৯,৫২৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৩,৩৭৮১৬ জন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: শওকতুল ইসলাম শকু। এই আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৮,৩৮১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত) প্রার্থী মো: শাহেদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৩,৪৫৮টি। মোট ব্যবধান ছিল ১৪,৯২৩ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ পেয়েছে ৮৩,৯৩০ আর না পেয়েছে ৬৭৯৩৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৩,০৩০২০ জন।
মৌলভীবাজার-১ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান। মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর উপজেলা মিলে মোট ১৭৬টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১,৫৬,৭৫৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট জামায়াত ও জনতার প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৭,৬৩৬টি। মোট ব্যবধান ছিল ৭৯,১২১ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ পেয়েছে ১,৩৩,৯১৬ ভোট আর না পেয়েছে ৭৮,৬৭১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৪,৮৬,২১২ জন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলা মিলে মোট ১৬৪টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১,৭০,৮৭৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃতাধিন ১১ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিক্সা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫০২০৪টি। মোট ব্যবধান ছিল ১,২০,৬৭৩ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ পেয়েছে ১,২৭,৪২৮ ভোট। আর না পেয়েছে ১,০৭,৬৩৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৪,৮৭,৮৮৮ জন।
জেলায় ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৪ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ছিলেন ১৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৯শ ৩৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ৫৫৮ টি। মোট ভোট পড়েছে ৫১.২৭ শতাংশ। পোষ্টাল ভোট রেজিষ্ট্রেশন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭শ ৩৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে পৌছায় ১৬৮৬২ ভোট। বাতিল হয় ১৪৬৪ ভোট।



মন্তব্য করুন