স্বাবলম্বী করতে মৌলভীবাজারে অসচ্ছল নারীরা পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ১৫টি সেলাই মেশিন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সুবিধা বঞ্চিত ও অসচ্ছল নারী সমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে তিনমাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষিণ শেষে ১৫জন নারী পেলেন সেলাই মেশিন।
১ মার্চ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে মৌলভীবাজারে অসচ্ছল নারীর মধ্যে ১৫টি সেলাই মেশিন উপকারভোগির হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: তানভীন হোসেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখা সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে ও শুভসংঘের সহ-সভাপতি ও ইম্পেরিয়াল কলেজের পরিচালক সিতাব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা, শুভ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও পাঠক প্রিয় কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার এস এম উমেদ আলী, শুভসংঘের উপদেষ্টা দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি মো: সাইফুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের কর্মকর্তা ও কালের কন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: তানভীর হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমার স্ত্রী সেলাই শিখে সন্তানদের জন্য জামা তৈরি করার পর পরিবারে যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে, তা তাকে এই কাজের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্ঠা ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আজ সন্তানদের পেছনে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করলে আগামী ২০ বছর পর তারা পরিবার ও সমাজকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে। সুশিক্ষিত প্রজন্মই ভবিষ্যতে জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, যা সরকারেরও লক্ষ্য।
বসুন্ধরা গ্রুপের এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সারাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় ৮০ হাজার কর্মীর এই বৃহৎ পরিবারটি দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষায় বিনিয়োগের পরামর্শ অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগি মায়েদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে হবে এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে হবে। সন্তানদের শিক্ষাকে একটি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান।
উপকারভোগীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এই সেলাই মেশিন কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং এটি স্বচ্ছলতা আনার একটি ‘হাতিয়ার’। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসবে এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে। তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, মৌলভীবাজার অঞ্চলে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না; বসুন্ধরা শুভসংঘ সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।
উপকারভোগি তিশা দেব তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, ‘এই প্রশিক্ষণ আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং এখন নিজের ও পরিবারের জন্য অবদান রাখতে পারবো।’
শুভসংঘের জেলা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান বলেন, “ভবিষ্যতে মৌলভীবাজার জেলায় জনকল্যাণমূলক আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সৈয়দ আহসান আক্তার দোলন, রাসেল আহমদ মাহমুদ ,মো. আব্দুস সোপান ছামি,মো. মনির উদ্দিন, জাবেদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান ইয়ামিম, হোসাইন আহমদ সাব্বির, শামসুল ইসলাম শুভ, সৃজন দাশ প্রমুখ।



মন্তব্য করুন