শ্রীমঙ্গলে চুরি হওয়া ১৫ ভরি স্বর্ণসহ ৩২ লাখ টাকার মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের বাসায় সংঘটিত চুরির ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ মিলিয়ে ৩২ লাখ টাকার মালামাল। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে দ্রুত চোর শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদিকে মামলার এজাহার ও থানা সুত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল পরিবারসহ কুলাউড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। রুমে ঢুকে দেখেন আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওয়ারড্রবে রাখা নগদ দুই লাখ টাকা এবং আলমারি ও ওয়ারড্রবে সংরক্ষিত বিয়ের ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার বা বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে এ চুরির ঘটনা ঘটায়। ঘটনার দিনই বিকেলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত অধ্যাপক সুদর্শন শীল বলেন, আমাদের প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। ঘটনার পর বেশ দিন পাড় হলেও টাকা ও স্বর্ণ আদৌ উদ্ধার হবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। তবে তিনি এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভরসা রেখেছেন।
এদিকে গুহ রোডের একাধিক বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। তারা রাতের টহল জোরদার এবং চুরির ঘটনায় মূল ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজীব চৌধুরী বলেন, অভিযোগের সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের সড়কে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, চুরির ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধার সর্বাত্তোক চেষ্টা করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন