সংসদে মৌলভীবাজারের উন্নয়ন দাবিতে সরব নাসের রহমান

April 22, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার ১৮ এপ্রিল বিকেলে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, ঢাকা-সিলেট রুটে আলাদা রেল কোচ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মি: রহমান বক্তব্যর শুরুতে স্পীকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন-মহামান্য রাস্ট্রপতির ভাষনের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে আমি প্রথমে আমার নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগরের) এলাকাবাসী কে ভোটারদের আমি আমার কৃতজ্ঞতা জানাই তারা আমাকে দ্বিতীয় বারের মতন এই সংসদে নির্বাচিত করে পাঠিয়েছেন। সেই সাথে আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কে যিনি আমাকে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী করে আমার এলাকার জনগণ কে এই মহান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার বক্তব্যর শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে যিনি কেবল মাত্র সরাসরি যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেন নাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক কঠিন ক্রান্তি লগ্নে দেশের নেতৃত্ব দিয়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠতার ও সততার সাথে দেশ পরিচালনা করেন। মাননীয় স্পীকার গভীর শ্রদ্ধা জানাই গনতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে যার অপরিসীম ত্যাগ ও দীর্ঘ সংগ্রাম বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সময়ে প্রবল প্রেরণা দিয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার এ সুযোগে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই আমার মরহুম পিতা এম সাইফুর রহমান কে যার বলিষ্ঠ অর্থনীতির সংস্কার সমূহ ও নীতিমালা সে সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভীতকে একটি বলিষ্ঠ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। পরিশেষে আমি স্মরণ করছি ২০২৪ এর জুলাই ছাত্র জনতার বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী ১৪০০ শহীদদের ৩০ হাজার আহতদের যাদের আত্মদানের কারণে ফ্যাসিস্টের হাত থেকে দেশকে আজকে মুক্ত করে আমরা এই স্বাধীন সার্বভৌম সংসদে কথা বলতে পারছি।

মাননীয় স্পীকার এ নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগে থেকে আমাদের বিরোধী দলীয় কিছু নেতা কয়েক মাস আগে থেকে বলছিলেন যে, উনারা প্রায় ক্ষমতায় চলে আসছেন। একজন নেতা উনি তো বললেন যে উনাদের দল এখন ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে। কিছুদিন পরে আরেক জন নেতা বললেন যে উনারা ক্ষমতা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি অবশ্য অঙ্ক করে কোন কিছু বুজতে পারছিলাম না কিভাবে এটা সম্ভব। যাই হোক ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা যে রেজাল্ট আশা করেছিলাম সেটাই হয়েছে। মাননীয় স্পীকার বাংলায় একটা প্রবাদ আছে যে ওস্তাদের মাইর শেষ রাইত এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই টা ১২ তারিখে দেখিয়ে দিয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার মহামান্য রাস্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে গেলে অবশ্য ধন্যবাদ দেওয়াই যায়। যে ব্যক্তি উনার নেত্রী (শেখ হাসিনা) কে পা ধরে সালাম করতেন উনি আজকে আমাদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন বা বলছেন এটাতো উনাকে ধন্যবাদ দেওয়াই যায়। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলার নাই উনার সম্বন্ধে।

মাননীয় স্পীকার আমাদের মৌলভীবাজার জেলা সদর-রাজনগরে সারা বাংলাদেশের মতোন এই সতের বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি অবহেলিত জনপদ হয়েছিল। সারা বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর রাস্তাঘাট গুলি যে করুন বেহাল দশা সেটা থেকে মৌলভীবাজার কোনও ব্যাতিক্রম নাই। নির্বাচনের সময় কোনও রাস্তা দিয়ে ঠিক মতো গাড়ী চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ন্যুনতম মেইনটেইননেনসের কাজকর্ম ওনারা কখনো করেন নাই বিগত সরকারের সময়। তাই আমর একটা প্রস্তাবনা যে গ্রামীণ অবকাঠামো রাস্তাগুলি যাতে একটা ক্রাস প্রোগ্রাম দিয়ে যেগুলি বিএনপি সরকারের সময় সারা বাংলাদেশে করা হয়েছিল সেগুলো সংস্কার করে মেরামত করা যায় তাড়াতাড়ি সেদিকে যদি সরকার মনোনিবেশ করেন।

এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মানুষ সুপেয় পানির বেশ অভাব ডিপ টিউবয়েলের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা যদি করা যায় ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম করে গ্রামের মধ্যে এলাকার জনগন অনেক উপকৃত হবে।

মাননীয় স্পীকার এই বার নির্বাচনের সময় আমার এলাকার লোকজনের একনম্বর দাবী। দুইটা ছিল বেসিকেলি। যে মেডিকেল কলেজ হতে হবে। সিলেট বিভাগে তিনটি জেলায় মেডিকেল কলেজ আছে শুধু মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ নাই। আমি এ বিষয়ে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অলরেডি একটা পত্র দিয়েছি। আমাদের আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট যে হাসপাতালটি আছে সেটা কে ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করে ওখানে প্রচুর জায়গা আছে বলে যেখানে একাডেমিক ভবন এবং হোষ্টেল তৈরি করার মতন জায়গা আছে সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ইচ্ছা করলে আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল কে ৪০০ শয্যায় উন্নীত করে একটা মেডিকেল কলেজ ইজিলি উন্নত করা সম্ভব হয়। সেজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী কে অনুরোধ করবো যাতে এটা তাড়াতাড়ি করতে পারি।

মাননীয় স্পীকার আরেকটা ছিল শমসেরের নগরের এয়ারপোর্টের বিষয়। এ এয়ারপোর্টটা যদি চালু হতো তাহলে আমাদের পর্যটন এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ উপকার হতো। আপনারা জানেন লাখ লাখ মানুষ প্রবাসে থাকেন মৌলভীবাজারে। তারা দেশে আসে। এবং সেটার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন জেলা হিসেবে এই শমসেরনগর এয়ারপোর্টকে পুনরায় চালু করা যায় সেদিকে আমি মাননীয় বিমান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তাছাড়াও শ্রীমঙ্গলের জন্য আরেকটু ডেডিকেটেড রেল লাইন কোচ যেন থাকে যাতে মানুষ জন ট্রেনে করে ঢাকা থেকে বা শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা আসতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com