জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বড় পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শাখা।
মঙ্গলবার ২৬ মে দুপুরে শহরের কলেজ রোডস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপন শুরু হয়। বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া বৃক্ষের চারা রোপন করেন অতিথিরা। বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার এ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় ও শুভসংঘের সভাপতি আল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন প্রেসক্লাবের সদস্য ও প্রবাসীদের সংগঠন ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’ এর প্রধান নির্বাহী গীতিকবি কায়েস আজিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রাণী দাস, পরিবেশকর্মী তারেক হাসান, বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক এম এ রকিব, সমাজকর্মী ফয়েজ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন ও সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আমিরুজ্জামান ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবুজার রহমান বাবলা, কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি আল আমিন, প্রেসক্লাব সদস্য মো: সুলতান মাহমুদ, সমাজকর্মী ফাহিম আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রাণী দাস বলেন, আমরা মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের উচিত যার যার জায়গায় বনায়ণ করা,গাছ রক্ষা করা,গাছের পরিচর্যা করা। আমি বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার স্কুলকে বেঁচে নেওয়ার জন্য।
শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। এর অংশ হিসেবে সামাজিক বনায়ন জরুরি বিষয়। গাছ লাগানো গাছ কাটা বৈশ্বিক বিষয় হয়েছে। আমি মনে করি বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজটি করছে। এই সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপনও আছে। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কাজটি সরকারের এই কাজটিকে তরান্বিত করবে। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের সফলতা কামনা করছি।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা জানি যে একেকটা দেশে ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে ১০ ভাগের কম বনাঞ্চল রয়েছে। আমাদের প্রকৃতি ভারসাম্য রক্ষায় সবুজ প্রকৃতি গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপন বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আমি আনন্দিত আজকের এই মহৎ কাজে অংশ নিতে পেরেছি। ইতিমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ সেলাই মেশিন বিতরণসহ নানা মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বুসন্ধরা শুভসংঘের বৃক্ষরোপন একটি মহৎ কাজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
লন্ডন প্রেসক্লাবের সদস্য ও প্রবাসীদের সংগঠন ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’ এর প্রধান নির্বাহী গীতিকবি কায়েস আজিজ বলেন, খুবই ভালো লাগছে বৃক্ষরোপন অত্যন্ত ভালো ও মহৎ কাজ এবং ধর্মীয়ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভালো কাজ। গাছ একটি প্রাণ । স্লোগান আছে ‘গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই, সমাজ বাঁচাই’ এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠি। বৈশ্বিক কারণে আমাদের ওজোন স্তরের লেভেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেনের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। আমাজন বন অক্সিজেনের জন্য বিশ্বের একটা হৃদপিণ্ড তেমনি শ্রীমঙ্গল, সন্দুরবন ও হিলট্র্যাকস বাংলাদেশে একিভাবে অক্সিজেনের হৃদপিন্ড। আমাদের আরো বেশি খেয়াল রাখতে কিছু বনায়ন বিনষ্ট হচ্ছে, অপরিকল্পিত নবায়ন হচ্ছে। এসব বিষয়গুলো সামাজিক সংগঠন সুধীসমাজ কথা বলতে হবে এবং সবাইকে সচেতন করতে হবে। শ্রীমঙ্গল অত্যন্ত সমৃদ্ধি জনপদ প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি-আল্লাহর দান। এখানে পাহাড়, হাওর ও নদনদী রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের উচ্চতা ও হাওরের নাব্যতা কমে হাওর উচু হয়ে যাচ্ছে। অরিজিনাল ডারভারসিটি বিনষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক- সুধীজনরা কথা বলতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় বসুন্ধরা শুভসংঘের-শুভ কাজের এমন উদ্যোগ নিশ্চিয় প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে যেন এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং রোপণ করা চারাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে নজরদারি রাখার অনুরোধ।’



মন্তব্য করুন