সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ ও লজ্জাশীলতা-ইসলামের অনন্য শিক্ষা

বশির আহমদ : রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, একজন মুমিনের চরিত্রে ছোটদের প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও মমতা এবং বড়দের প্রতি যথাযথ সম্মান থাকা অপরিহার্য। এখানে “বড়” বলতে শুধু বয়সে বড় ব্যক্তিকে বোঝানো হয়নি; বরং জ্ঞান, তাকওয়া, দায়িত্ব, পদমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানের দিক থেকেও যারা বড়, তাদের যথাযোগ্য সম্মান করাও ইসলামের শিক্ষা ও নীতিনৈতিকতার অপরিহার্য অংশ।
ইসলাম আরও শিক্ষা দেয়, প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার মর্যাদা, যোগ্যতা ও অবস্থান অনুযায়ী সম্মান দিতে হবে। তাই কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করা যেমন অন্যায়, তেমনি তুলনামূলক কম মর্যাদার কাউকে অযথা অধিক মর্যাদা দিয়ে প্রকৃত সম্মানিত ব্যক্তিকে অবমূল্যায়ন করাও সমীচীন নয়। ইসলাম সর্বক্ষেত্রে ন্যায়, ভারসাম্য এবং যথাযথ মর্যাদা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান প্রদর্শনের প্রবণতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, যার শক্তি বেশি বা ক্ষমতা বেশি, তার কথাই শেষ কথা। ফলে একে অপরকে সম্মান করার মানসিকতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নতুন প্রজন্মের ওপর। তারা যদি বড়দের সম্মান করতে না দেখে, তবে নিজেরাও বড়দের সম্মান করতে শিখবে না। অথচ একটি আদর্শ পরিবার, সুন্দর সমাজ এবং কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানবোধের কোনো বিকল্প নেই।
একইভাবে লজ্জাশীলতাও ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “লজ্জা ঈমানের একটি অংশ।” আজ অনেকেই কোনো কথা বলার আগে চিন্তা করেন না; যা মনে আসে, তাই বলে ফেলেন। কথাবার্তা ও আচরণে শালীনতা, সংযম ও ভদ্রতার অভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবার জন্যই অশনিসংকেত।
তাই আসুন, আমরা ছোটদের স্নেহ করি, বড়দের যথাযথ সম্মান করি, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিই এবং লজ্জাশীলতা, শালীনতা ও উত্তম চরিত্রকে জীবনের অলংকার হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইসলামের এই মহান শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনে ধারণ ও পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
লেখক : বশির আহমদ, অধ্যক্ষ, উলুয়াইল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা



মন্তব্য করুন