কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন চান শামছুল হক মাস্টার

August 27, 2026,

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: শামছুল হক মাস্টার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এবার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তিনি।

শামছুল হকের পিতা প্রয়াত তৈমুছ আলীও ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি জাগদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের আগে তিনি গ্রাম সরকারের দায়িত্বও পালন করেন। ফলে পারিবারিকভাবেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান শামছুল হক। শামছুল হক কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে প্রায় ১৫ বছর শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ন’মৌজা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

দলীয় সূত্র ও তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার দশক ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এসব মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

শামছুল হক মাস্টার বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা মেনে তিনি কাজ করেছেন। শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আহ্বায়কের সঙ্গে যৌথভাবে নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করে অল্প সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নেন। তবে কাউন্সিলের দুই দিন আগে প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৬২ বছর। যাঁরা এবার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, তাঁদের অনেকেই বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় আমার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ বছরের ছোট। দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকার কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি, দলের জন্য আমার ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে এবার বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

শামছুল হক মাস্টারের ভাষ্য, বর্তমানে তিনি বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল পদে নেই। তবে ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে জ্যেষ্ঠ। দলের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতারা তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়ে জানেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি বঞ্চিত হয়েছি। একজন মানুষ বারবার তো বঞ্চিত হতে পারেন না। তাই এবার দল আমাকে নির্বাচনের সুযোগ দেবে বলে আমি আশাবাদী।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান। তাঁর দাবি, শরীফপুর ইউনিয়নের তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারেও তিনি শতভাগ আশাবাদী। সকলের সহযোগিতায় শরীফপুর ইউনিয়নকে তিনি একটি মডেল ইউনিয়নে রুপান্তরিত করতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com