শ্রীমঙ্গলে ডিবি ও থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার, গ্রে/প্তা/র ৩

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রীমঙ্গলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩৬ বোতল বিদেশি মদ ও ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাগরদিঘী রোড ও শাপলাবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। সোমবার রাতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাগরদিঘী রোডের শাপলা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬ বোতল বিদেশি মদসহ রাজিব আলী (২৮) ও রাজেশ ভর (২৩) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাজিব আলী কুঞ্জবন পশ্চিমপাড়া এলাকার মো: ইউনুস আলীর ছেলে এবং রাজেশ ভর সাগরদিঘী রোড এলাকার বালিরাম ভরের ছেলে।
রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শাপলা পয়েন্টে একটি লাকড়ির দোকানের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিদেশি মদ নিয়ে অবস্থান করছে। পরে এসআই মো: ইমানুর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালালে দুইজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের আটক করা হয়।
তল্লাশি করে রাজিব আলীর কাছ থেকে ১২ বোতল এবং রাজেশ ভরের কাছ থেকে ২৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে ১৮ বোতল রয়্যাল গ্রিন ডিলাক্স ব্লেন্ডেড হুইস্কি ৩৭৫ সষ এবং ১৮ বোতল ম্যাজিক মোমেন্টস গ্রেইন ভদকা ৩৭৫ সষ রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা মদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মদ নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে রাজেশ ভর রাজিব আলীর কাছ থেকে মদ ক্রয়ের কথা জানিয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার শাপলাবাগ এলাকার রেলওয়ে কলোনির বিল্লাল মিয়ার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল সালাম (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তার আব্দুল সালাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার মনতলা ভাঙ্গারপাড় এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি শাপলাবাগ এলাকায় বিল্লাল মিয়ার বস্তিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে দুইজন অবস্থান করছে জানতে পেরে এসআই সঞ্জয় শর্মার নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে আব্দুল সালামকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আব্দুল সালামের দেহ তল্লাশি করে তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে কালো রঙের জিপারযুক্ত বায়ুনিরোধক পলিব্যাগে থাকা ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল সালাম জানায়, সে ও পলাতক কালু পরস্পর সহযোগিতায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল।
বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজিব আলী ও রাজেশ ভরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(খ) ধারায় এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুল সালাম ও পলাতক একজনের বিরুদ্ধে একই আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য করুন