জুড়ীতে অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, জমির দখল পেতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন

মাহফুজ শাকিল : জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ প্রায় ৩ একর ৭ শতক জমির মালিকানা আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জমির মালিক পক্ষ। একই সঙ্গে ওই জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিক শ্রী নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী নিবাস চন্দ্র দাস (চুনু) এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর-১২৫, আরএস খতিয়ান নম্বর-২৬০, এসএ দাগ নম্বর-১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ নম্বর-১৬৭১ ও ১৬৭২-এর আওতাধীন মোট ৩ একর ৭ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্ড কুমার দাস। বারিন্ড কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির মালিকানা জিতেন্দ্র কুমার দাসের কাছে আসে বলে দাবি করা হয়। জিতেন্দ্র কুমার দাসের তিন ছেলে থাকলেও তাঁদের মধ্যে দুজন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। এ অবস্থায় মৃত্যুর আগে জিতেন্দ্র কুমার দাস তাঁর সম্পত্তি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসকে দলিল করে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে স্বাধীনতার পর ওই ৩ একর ৭ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২ একর ৮২ শতক জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত নেন বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন জমির মালিকপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া জমির মালিকানা ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি আদালতের রায়ে ওই জমিতে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর নামে জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি জানার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে গত ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তবে ওই সময় বর্তমানে জমিতে থাকা অবৈধ দখলদাররা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করে এবং কয়েকজন সাংবাদিককে ডেকে এনে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেন নিখিল চন্দ্র দাসের পক্ষ। তাঁদের এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে বলেন, আমাদের এলাকার সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে এমপি সাহেব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একটি কুচক্রী মহল এমপি সাহেবকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, যা খুবই দুঃখজনক। আমরা এই বিষয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ওই জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।



মন্তব্য করুন