কমলগঞ্জে ৮ মাসের অন্ত:স্বত্তা গৃহবধূকে বেদড়ক পিটিয়ে আহত ॥ থানায় লিখিত অভিযোগ

July 19, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ যৌতুকের দাবিতে দাম্পত্য কলহে স্বামী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামে এক সন্তানের জননী ৮ মাসের অন্ত:স্বত্তা এক গৃহবধূকে কাঠের রুলার দিয়ে বেদড়কভাবে পিটিয়ে গুরুতরভাবে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় গৃহবধূর বাবার লিখিত অভিযোগে পুলিশ স্বামীর কবল থেকে আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় নিজ বসত ঘরে গৃহবধূকে বেদড়কভাবে পিটিয়ে আহত করলে বুধবার ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে চারটায় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক সৈয়দ মো: নাসির উদ্দীন নির্যাতিতা গৃহবধূকে উদ্ধার করেন।
বুধবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জ থানায় করা কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর বাজার এলাকার ইমানী মিয়া(৬০)-এর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর আগে শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে জিপ চালক হোসেন আলীর সাথে তার মেয়ে মোছা: সেলিনা আক্তারের সামাজিকভাবে ইসলামী বিধানমতে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে হোসেন আলী তার ৮ মাসের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী মোছা: সেলিমা আক্তারকে নানাভাবে নির্যাতন করছে। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে প্রচন্ড আকারে দাম্পত্য বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে এ বিরোধে হোসেন আলী অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে বসত ঘরে আটকিয়ে একটি কাঠের রুলার দিয়ে বদড়কভাবে পিটিয়ে আহত করে।
গ্রামবাসী সূত্রে খবর পেয়ে তিনি (গৃহবধূও বাবাব ইসানী মিয়া) বুধবার সকালে মেয়ের চিকিৎসার জন্য তাকে নিতে আসলে মেয়ের জামাই হোসেন তাকে বাবার সাথে যেতে দেয়নি। পরে তিনি গ্রামের মুরব্বী ও হোসেনের আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায়ও মেয়েকে নিতে ব্যর্থ হয়ে বেলা আড়াইটায় চিকিৎসার জন্য মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত আবেদন করেন। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে দিতে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক সৈয়দ মো: নাসির উদ্দীনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুধবার বেলা সাড়ে চারটায় উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দীন বড়চেগ গ্রামে গিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে নির্যাতিতা গৃহবধূকে উদ্ধার করেন। গৃহবধূর বাবা আরও বলেন, আগে মেয়ের চিকিৎসা সেবা দরকার বলে মেয়ের জামাইর বিরুদ্ধে এখন কোন ব্যবস্থা গ্রহনে তিনি উদ্যোগী হননি।
উপ পরিদর্শক সৈয়দ মো: নাসির উদ্দীন অভিযোগ ও গৃহবধূ উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত স্বামী হোসেন আলী মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন স্ত্রীর সাথে তার দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। এ বিরোধে তিনি মঙ্গলবার রাতে স্ত্রীকে হালকাভাবে চড় থাপ্পড় মেরেছেন। আর স্ত্রীকে বাবার বাড়ি যেতে তিনি আপত্তি দেননি। তিনি চেয়েছিলেন নিজেই তাকে সেখানে পৌছে দিবেন। তবে তার আগে কিছু বোঝাপড়ার বিষয় ছিল। এখন পুলিশ এসে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে নেওয়ায় সে নিজে অসম্মানিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com