ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার, রাজনীতিতে আলোকিত পথচলা কমলগঞ্জে সৈয়দ সালেহ আহমেদের গৌরবগাঁথা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামপাশা সৈয়দ পরিবারের অন্যতম গর্ব, বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক সৈয়দ সালেহ আহমেদ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজনীতি ও সমাজসেবায় রেখে চলেছেন অনন্য অবদান। সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে তিনি আজও এলাকাবাসীর কাছে একজন সম্মানিত ও প্রিয় মুখ।
১৯৫০ সালের ১লা জুলাই ঐতিহাসিক রামপাশা সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ সালেহ আহমেদ। তাঁর পিতা ছিলেন সিলেট বিভাগের মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল কাহির (গোলাম মোস্তফা) এবং মাতা মোছাম্মাৎ আমেনা বানু। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
শিক্ষাজীবনে তিনি রামপাশা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কমলগঞ্জ সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা থেকে ১৯৬৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৬৯ সালে এইচএসসি এবং ১৯৭৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা রেখে একজন সফল ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক অবস্থান তাকে জাতীয় পর্যায়েও সুপরিচিত করে তোলে।
সামাজিক জীবনে তিনি ১৯৭৬ সালে কমলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। একজন ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ সালিশ বিচারক হিসেবে তাঁর সুনাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য হিসেবে দলকে সংগঠিত করতে নিরলস কাজ করেন। পরবর্তীতে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে টানা প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে দল তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সদস্য সংগ্রহে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়।
এছাড়াও তিনি ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ‘নিসর্গ’ প্রকল্পের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়েই উদ্যানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। শিক্ষা খাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন, যা পরবর্তীতে সরকারি কলেজে উন্নীত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ সালেহ আহমেদ সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে একজন। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জের নূরপুর চৌধুরী পরিবারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর তিন পুত্রের মধ্যে একজন সফল ব্যবসায়ী, একজন যুক্তরাজ্যে প্রবাসী এবং কনিষ্ঠ পুত্র ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক অবদান ও মানবিক গুণাবলির কারণে তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন এবং তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।



মন্তব্য করুন