কমলগঞ্জের কুরমা বনবিটের সহায়তায় অবাধে চলছে বন নিধন

এম এ হামিদ॥ কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ইসলামপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল কুরমা বনবিটের হামহাম জলপ্রপাতে যাবার পথে রাস্তার দু’পাশে একটু ভিতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে শতশত সেগুন গাছ কাটার দৃশ্য। আর এসব গাছ চুরিতে সরাসরি সহায়তা করছে বনভিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। সবচেয়ে বেমী চুরি হচ্ছে ইরানি টিলা,পাথর টিলা ও তৈলং বস্তি এলাকায়।
কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা বনবিটের দূর্গম পাহাড়ি এলাকার নয়নাভিরাম জলপ্রপাত হামহাম যেতে পায়ে হেটে চলার রাস্তার দু’পাশে একটু লক্ষ করলেই চোখে পড়বে আরও ছোট ছোট ট্রেক। কখনো কখনো চোখে পড়বে বাঁশ দিয়ে রাস্তাটি এমনভাবে ডেকে দেয়া হয়েছে যাতে দেখে মনে হয় সামনে আর যাবার জায়গা নেই। এ ট্রেক বা পথ দিয়ে সামনে এগুলেই চোখে পড়বে অসংখ্য বড় বড় সেগুন গাছের মোথা ও ডাল।
প্রতিদিন এখান থেকে হাজার হাজার বাঁশ ও ২০ থেকে ৩০টি সেগুন গাছ কর্তন করা হচ্ছে। আর সরাসরি মদদ দিচ্ছে বন বিভগাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন বর্তমান বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম এ বিটে যোগদান করার পর থেকেই গাছ চুরি আরও বেড়ে যায়। বিট কর্মকর্তা এলাকার কিছু চিহিৃত গাছ চুরদের সাথে আতাত করে সেগুন কাঠ ও বাঁশ বিক্রী করে লক্ষ লক্ষ টাকা কামাচ্ছেন। আর এতে তাকে সহযোগিতা করছে কলাবন এলাকার বন ক্যাম্পের চার জন কর্মচারী।

গাছগুলো কেটে পুরাতন গাছের পাতা দিয়ে বা বাঁশের পাতা দিয়ে ডেকে দেয়া হয়। কোনও কোনও সময় মোথা উপড়ে ফেলে দেয়া হয়।
বনবিভাগের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা সরেজমিন এলাকাটি পরিদর্শন করে অনুসন্ধান করলেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
হামহাম ও কুরমা বন বিট এলাকার নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে বনবিভাগের হাতেই লাঞ্চিত হতে হয়েছে। এমনকি অল্পের জন্য গুলি লক্ষ্যভ্রস্ট হলে প্রাণে বেঁচে যাই।
বনবিভাগের লোকদের বলে যাবার পরও এমনকি মোটর সাইকেলটি তাদের ক্যাম্পে রেখে যাবার পরও বলা হচ্ছে তারা জানেননা। গাছ চুর হিসেবে নাকি গুলি করা হয়েছিল। আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিলে ও গুলি করার পূর্বে এক বন কর্মীর পায়ে পড়ে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। পাহাড়ী রাস্তার হাটার সময় অনেক বুঝিয়ে ক্যামেরাটা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
গুলি করার অর্ডার দেয়া বনবিভাগের কর্মচারিটি এক পর্যায়ে বিট অফিসারের সাথে টেলিফোনে কথা বলে যে স্যার গুলি লাগেনি আপনি বললে গুলি করে লাশ এমন যায়গায় ফেলবো খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
বনবিভাগকে বন্ধুক দেয়া হয়েছে সেটা গাছ চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য। অথচ আজ সেটা একজন সংবাদকর্মীর উপরে উঠলো।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী(জিডি) করা হয়েছে। যার নাম্বার ৭২১,তাং-১৫ সেপ্টেম্বর’১৭।
কুরমা বনবিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৬ মাসধরে এবিটে কর্মরত আছেন। তার আমলে একটি গাছও চুরি হয়নি। অথচ তিনিউ গুলি করারনোর পর ওই এলাকার অনেককে দিয়ে ফোন করিয়ে এমনকি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে বাসায় আসেন বিষয়টি সমাধান করতে। কিন্তু আমাকে বাসায় পাননি।
সিলেটের বিভাগীয় বনকর্মকর্তার পরামর্শে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে যাই।
সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ) রাজেস চাকমার সাথে দেখা করলে তিনি সম্পূর্ণ ঘটনা শুনেন এবং বলেন তিনিও খোঁজ নিয়ে গুলি করার সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বলেন এব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন এব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী হলে বিভাগীয় অফিসে পাঠানো হবে।
সিলেট বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, যে ছবিটা তোলা হয়েছে তা রিম্যাক করা। এবিষয়ে চ্যালেঞ্জ করলে সরেজমিন এলাকায় এসিএফ সাহেব গিয়ে পরিদর্শন করার কথাও জানান তিনি। এ থেকেই বুঝা যায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা গাছ চুরির সাখে জড়িত। তিনি এবিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেও জানান।
নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছি, গুলি করে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কূকর্ম কি ঠেকানো যাবে ? আজ দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না দিয়ে যদি তাদের পুরস্কৃত করা হয় তবে এদেশের বন উজাড় হবে ছাড়া ভাল থাকবে না,অব্যাহত থাকবে পরিবেশ দূষনও। বন বিভাগের কর্তারাই মদদ দিচ্ছেন বন উজাড়ে নতুবা বন কর্মীিে এখওনা বহাল তয়িতে থাকতো না।



মন্তব্য করুন