বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের প্রতিবাদ সমাবেশ : স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের নবীগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের না জানিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই বর্তমান সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক গোপন আতাতের মাধ্যমে কোন সভা ছাড়াই একটি পকেট কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি অনুমোদনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছেন। এদিকে এ বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সরেজমিন গতকাল ১৪ অক্টোবর শনিবার দুপুরে স্কুলে গেলে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শতাধিক অভিভাবক ও স্থানীয়রা এসবের কারণ জানতে বিদ্যালয়ে জড়ো হয়েছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এক সপ্তাহ থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বিদ্যালয়ে আসছেন না। তাৎক্ষনিক মুক্তাজিপুর গ্রামের প্রবীন মুরব্বি ইছহাক মিয়ার সভাপতিত্বে বিক্ষুব্ধরা বিদ্যালয়ের সম্মুখে এক প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ শেষে তারা এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষনার দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। বর্তমান কমিটির সদস্য মাসুক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৬ নভেম্বর। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে ইতিমধ্যে ভোটার তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ১২ অক্টোবর জানতে পারলাম কমিটি গঠন হয়ে গেছে। বিষয়টি জানতে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা আমাকে কিছু বলেননি।
অভিভাবক ইদ্রিছ উদ্দিন, হাজী আছলম মিয়া, আছকর আলী, ইব্রাহীম আলী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে মাসে নতুন কমিটি গঠনের কথা। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বর্তমান সভাপতি আব্দুল আজিজ এর সাথে গোপন আতাত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষা অফিসে মনগড়া একটি কমিটি জমা দেন। যা নিন্দনীয়।

জাব্দা গ্রামের আব্দুল কাদির, ফারুক মিয়া, কমিটির সাবেক সদস্য তারা মিয়া, সামাদ মিয়া, রাজা মিয়া, কাজল মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সভাপতি আব্দুল আজিজ এর আগেও বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। অনুদানের ৩৬ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। তাছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের কোন খোজ-খবর রাখেননা। ব্যবসার কাজে তিনি সবসময় সিলেটেই থাকেন। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে দু’একদিন স্কুলে আসেন। স্কুলে না এসে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন। সরকারীভাবে দেয়া স্কুলের কম্পিউটারটিও প্রধান শিক্ষক নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
এবিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সভাপতি আব্দুল আজিজ কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যা হয়েছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, বর্তমান বিধি মোতাবেক কমিটির মেয়াদ শেষ হবার এক মাস পূর্বে নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচনী তফসিল প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নোটিশ বোর্ডে টানানো এবং ক্লাশে ক্লাশে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা করেছেন কিনা আমি জানিনা। নির্বাচনে কোন প্রার্থী না থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি কমিটি দেয়া হয়েছে।



মন্তব্য করুন