কুলাউড়ায় আসাদ হত্যাকান্ডে জড়িতরা আটক, সিএনজি উদ্ধার

November 2, 2017,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ সিএনজি অটোরিক্সা চালক আসাদ আলী হত্যাকান্ডের দুই মাসের মাথায় জড়িতদের আটক করেছে পুলিশ। দীর্ঘ এই সময়ে কোন প্রমাণ রেখে না যাওয়ায় আসামীদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে বলে জানান কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) বিনয় ভূষন রায়।
বুধবার ১ নভেম্বর দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। এসময় ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা এবং নিহত আসাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো বড়লেখা উপজেলার সোনাপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসাইন (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নছির নগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামের পুরানবাড়ির (বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তবাজারের বাসিন্দা) গোয়াব মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন উরুপে হাবিব হোসেন (৩২), হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল জাহিরের ছেলে আলী হোসেন (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর গ্রামের পূর্বভাগ গ্রামের রুকু মিয়ার ছেলে ইউসুফ মিয়া (২৫)।
জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে আসাদ তার চালিত অটোরিক্সা (মৌলভীবাজার থ ১১-১৫৮৮) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হোন। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আসাদের পিতা কুলাউড়ার মনরাজ গ্রামের মো. উমর আলী চারিদিকে খোঁজ খবর নিতে থাকেন।
নিখোঁজের ৩ দিন পর অর্থাৎ ৪ অক্টোবর কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের পাশে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে আসাদের পিতা থানায় গিয়ে নিজের ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। ওইদিনই অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহত আসাদের বাবা নিজে বাদি হয়ে মামলা নং (০৪(০৯)১৭) দায়ের করেন।
এবিষয়ে নিহত আসাদের মামা এলাইছ মিয়া জানান, আমরা কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে চির কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে তদন্ত ওসি বিনয় দা’র ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। উনাদের প্রতিটা অভিযানে আমি সাথে ছিলাম। একটা টাকাও দেই নি, কিন্তু উনারা সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন। এখন শুধু আটককৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেই আসাদের আত্মা শান্তি পাবে।
কুলাউড়া থানার বিনয় ভূষন রায় বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকান্ডে জড়িতদের ধরতে মাঠে কাজ করে পুলিশ। আসামীরা খুব সূক্ষভাবে এই হত্যাকান্ড করে। কোন প্রমান না থাকায় আসামীদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পরে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রথমে বড়লেখার জাকিরকে আটক করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যমতে বাকি আসামীদের ধারাবাহিকভাবে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বড়লেখা থেকে আসামীদের আটক করা হয়েছে। আসাদের পরিবারও পুলিশের কর্মকান্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com