বড়লেখায় সরকারী বইয়ের মোড়কে ব্যক্তিগত নাম ব্যবহার : তদন্তের নির্দেশ

January 18, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখার কাঠালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণকৃত সরকারী বইয়ের মোড়কে এসএমসির সহ-সভাপতি ফারুক আহমদের নাম ব্যবহার নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছিল সমালোচনার ঝড়। বইয়ের মোড়কে এভাবে নিজের নাম ফাটানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অনেকেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসির সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে সর্বসম্মতভাবে ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানা গেছে, কাঠালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুর রাজা দুলু অসুস্থ হওয়ায় সহ-সভাপতি ফারুক আহমদ সভাপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম আতাউর রহমান তাকে বিদ্যালয়ে অবাদ যাতায়াতের সুযোগ করে দেন। বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীন ও সমস্ত কাজে অনিয়ম এবং নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড চালিয়ে যান। বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক শিক্ষিকার ৯ জনই মহিলা শিক্ষক। বিদ্যালয়ের পাশেই ফারুক আহমদের মুদি দোকান থাকায় তিনি কারণে-অকারণে স্কুল চলাকালীন প্রায়ই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে ফারুক আহমদের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকায় প্রধান শিক্ষক ও সহ-সভাপতি নানা স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যান।

১ জানুয়ারী জাতীয় বই উৎসবে সরকারী বইয়ের মোড়কে এসএমসির সহ-সভাপতি ফারুক আহমদ এমনভাবে নিজের নাম জুড়ে দেন সম্যক জ্ঞান থাকা মানুষও মনে করবে বইগুলো তিনি দিয়েছেন। অথচ সমগ্র বাংলাদেশে একই সাথে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জাতীয় বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়। কোথাও বইয়ের মোড়কে ব্যক্তিগত কারো নাম জুড়ে দেয়ার নজির মিলেনি। অভিভাবকসহ অনেকেই এর তীব্র সমালোচনা করে প্রধন শিক্ষক ও সহসভাপতির বিরুদ্ধে দৃষ্ঠান্তমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন। সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বই উৎসবে সরকারী বইয়ের মোড়কে কারো নাম ব্যবহারের কোন এখতিয়ার নেই। সরকারী বইয়ের মোড়কে এভাবে নিজের নাম জড়ানো সরকারের সাথে দৃষ্টতার সামিল। প্রধান শিক্ষক ও সহসভাপতির বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেন। পরে সর্বসম্মতভাবে ঘটনা তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান জানান, সরকারী বইয়ের মোড়কে সহ-সভাপতির নাম জুড়ে দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিঞাকে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি দায়িত্ব দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com