(ভিডিওসহ) মৌলভীবাজারে লকডাউনে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছেনা : নিরব প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউনে সরকারি নির্দেশনায় লোক সমাগম, গণ-পরিবহন বন্ধে ঘোষণা হয়। সোমবার ১৩ এপ্রিল থেকে লক ডাউন মৌলভীবাজার জেলাকে করা হলেও মানছে না জনগণ। প্রশাসনের কড়াকড়িও চোখে পড়েনি। সবকিছু চলছে স্বাভাবিক গতিতে। লোকজন গাদাগাদি করে করছেন কেনাকাটা।
১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার মৌলভীবাজারে চলছে দ্বিতীয় দিনের মত লক ডাউন চলছে। অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশীই লোক রাস্তায় নেমে এসেছে। চলছে রিক্সা সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন। নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে ট্রাক বোঝাই করে আসার খবরও মিলছে। এতে করে করোনা সংক্রমন বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন জেলার সিভিল সার্জন।
পুলিশ বলছে লোকজনদের বুঝাতে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসায়ীরা বলছেন রাস্তায় মাছ বাজার ও কাঁচা বাজার বসানোতে লোক সমাগম বেশী দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া প্রকট রোদে তাদের মাছ নষ্ঠ হয়ে যাওয়াতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন ভিতর বাজার ১২০ জনের মত লোক বসতে পারে, তাদের সেখানে বসতে দিলে ৩০ জন করে পর্যায়ক্রমে সবাইকে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া যাবে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন তারা দূরত্ব বজায় রেখেই কেনা কাটা করছেন। কিন্ত বাস্ত চিত্র ভিন্ন।
এছাড়াও জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃত কর্মহারাদের ত্রাণ না দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের ত্রাণ দিচ্ছেন বলেও জানাগেছে।
মো: দেলোয়ার হোসেন, সভাপতি, কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি বলেন ১২০ জনের মতো মাছ ব্যবসায়ী রয়েছেন পশ্চিমবাজারে। রোদে বসে মাছ বিক্রী করাতে মাছ নষ্ঠসহ ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। এমতাবস্তায় তাদেরকে ভিতর বাজার বসতে দিলে প্রতিদিন ৩০ জন ব্যবসায়ী পর্যায়ক্রমে বসলে দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা করা যাবে। এতে তাদের লোকসান গুনতে হবেনা। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্ঠি আকর্ষন করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, লোকজনকে বুঝাতে তারা চেষ্ঠা করছেন। তারপরও লোকজন এক যায়গায় জড়ো হয়ে কেনাকাটা করছে।
সিভিল সার্জন ডাঃ তওহিদ আহমদ বলেন রিপোর্টগুলো সিলেট থেকে ঢাকা হয়ে আসতে দেরী হচ্ছে। তবে শীঘ্রই সিলেট থেকে সরাসরি চলে আসবে। লোকজন সতর্ক না হলে কমিউনিটি সংক্রমন রোধ করা যাবেনা বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে ২৪৮টি পেরিত রিপোর্টের মধ্যে ১৫টি রিপোর্ট এসেছে তার মধ্যে মৃত ব্যক্তির রিপোর্টটি পজেটিভ আসে। জেলায় আজ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৩ শত ১৮ জন, ৬ শত ৬৫ জন হোম কোয়ারেন্টিন থেকে বাহিরে এসেছেন।
রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে ১৪৮টি, রিপোর্ট এসেছে ১৫ টি। নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা থেকে লোকজন জেলায় প্রবেশের কারনে হোম কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা বাড়াতে হচ্ছে।



মন্তব্য করুন