চা বাগানে নেদাল্যান্ড সকারের অর্থায়নে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সেবার আমুল পরিবর্তন

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে নেদাল্যান্ড সকারের অর্থায়নে তিনটি চা বাগানে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতামুলক কর্মকান্ডে আড়াই বছরে আমুল পরিবর্তন এসেছে।
জেলার শ্রীমঙ্গলের ব্রাকের ট্রার্কে ওয়াস এসডিজি ডাব্লউ এ আই প্রোগ্রামের আওয়াতায় ও ওয়াটার এইড, সীমাভী, আইডিয়া ও এইচ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরুর সময়ের গবেষনা ও পরবর্তী আড়াই বছরের সমীক্ষা বিশ্লেষনে এ তথ্য উঠে আসে।
বুধবার ২৬ জুলাই দিনব্যাপী এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সীমাভী এর কান্টি ডিরেক্টর অলক কুমার মজুমদার।
এ সময় সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সীমাভী’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শামসু রহমান ও ওয়াটার এইড-এর প্রজেক্ট কো-অডিনেটর কে এ আমিন।
এছাড়াও চা বাগানে সার্বিক অবস্থা ও উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইডিয়া এর ম্যানেজার পঙ্কজ দস্তিদার ও সুষ্মিতা ভট্টাচার্য্য।
সীমাভী এর কান্টি ডিরেক্টর অলক কুমার মজুমদার বলেন, ওই তিন বাগানে ২০২০ সালে নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন এর হার ছিল মাত্র ৪ ভাগ।
এটি আড়াই বছরের কার্যক্রমে উঠে এসেছে ১০ ভাগে। তাছাড়া নিরাপদ পানির ব্যবহার শুরুতে ছিল ৪ ভাগ বর্তমানে তা উন্নিত হয়েছে ১৯ ভাগ।
আইডিয়ার ম্যানেজার পঙ্কজ দস্তিদার বলেন, এ উন্নয়ন হয়েছে চা শ্রমিদের কোন বরাদ্দ দিয়ে নয় এটি শুধু মাত্র তাদের সচেতন করে হয়েছে।
তারা বলেন, এই প্রকল্প শুরুর পূর্বে এ চা বাগান গুলোতে পরেবার ভিত্তিক স্বাস্থ্য বিধি মানতো না ৯৩ ভাগ চা শ্রমিক এখন এর হার মাত্র দুই ভাগ।
রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বুনাজী বলেন, এই সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে অনান্য বাগানেও তা করা যেতে পারে।
ওয়াটার এইড এর প্রজেক্ট কো-অডিনেটর কে এ আমিন বলেন, এই প্রকল্পের গবেষনা প্রতিবেদন অনুযায়ী আড়াই বছর আগে নলকুপের পানি পান করতো ৯১ ভাগ চা শ্রমিক। বাকিরা কুয়ার পানি পান করতো। বর্তমানে শতভাগ চা শ্রমিক নলকুপের পানি পান করে।

সীমাভী এর উর্ধতন কর্মকর্তা শামসু রহমান বলেন, এই কাজে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে ২৭ জন ভলান্টিয়ার সদস্য।
এই ভলান্টিয়ার দের প্রথমে প্রশিক্ষন দেয়া হয় পরে তারা চা বাগানের ঘরে ঘরে এবং সেকশনে গিয়ে চা শ্রমিকদের, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নিরাপদ পানি পান ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করে। এর ফলে এ সকল চা বাগানে এখন প্রায় ৫০ ভাগ চা শ্রমিক পাকা টয়লেট ব্যবহার করে।
এ কাজে নিয়জিত শ্রীমঙ্গল হুগলিছড়া চা বাগানে ভলান্টিয়ার লাভনী শুক্ল বৈদ্য বলেন, তিনি বাগানেরই মেয়ে প্রথমে নিজের পরিবারকে তিনি সচেতন করেন।
পরে খোলা জায়গায় টয়লেট করা, কুয়ার পানি পান করা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা না করানো, মেয়েদের মাসিকে প্যাড ব্যবহার না করে ময়লা কাপর ব্যবহার এই বিষয়গুলো বাগান জুড়েই বিদ্যমান ছিল। তিনি তার অন্য সহকর্মীদের নিয়ে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে লাখাই ছড়া চা বাগানের ভলেন্টিয়ার রত্মা কুর্মী বলেন, প্রথমে বাগানের মানুষদের বুঝাতে কষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে তারা পঞ্চায়েত প্রধানদের সাহায্য নিয়েছেন।
বিশেষ করে তারা ঞাতধুয়া, ময়লা ফেলার জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় গর্ত করা, শিশুদের টয়লেটের জন্য পটি ব্যবহার, সচেতনতা মূলক ভিডিও উপস্থাপন, খেলাধুলার আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়া এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিচাল পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাজ্জাত হোসেন চৌধুরী, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জী, একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ দেব রাকু, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা আক্তার, আইডিয়ার কর্মকর্তা বিশ^জিত দেবরায় ও ইউপি সদস্য সেলিম হক। সেমিনারে চা বাগান এলাকার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, পঞ্চায়েত প্রধান ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য করুন