শ্রীমঙ্গলে লেমন গার্ডেন রিসোর্ট হত্যাকান্ডের বিষয়টি এখনো রহস্যেঘেরা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গলে লেমন গার্ডেন রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করা মরদেহের বিষয়টি এখনো রহস্যেঘেরা। এটা কি হত্যাকান্ড না কিভাবে তাঁর মৃত্যু হলো তা অজানা রয়ে গেছে। এ ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে পুলিশ ধারণা করছে, ব্যবসায়িক লেনদেন বা নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণে ঘটনা ঘটতে পারে। পলাতক আসামীরা ধরা পড়লে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
তবে একটি বিশেষ মহল বলছে, লেমন গার্ডেন রিসোর্টে সবসময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। রিসোর্টের প্রধান ফটকে নিরাপত্তায় একাধিক নিরাপত্তা কর্মি থাকে।
ভেতরে সাধারণ পর্যটক প্রবেশ করতে হলে ৩০০ টাকা প্রবেশ ফ্রি দিয়ে ঢুকতে হয়। গেষ্ট হিসেবে রুম বুকিং থাকলে প্রধান ফটক থেকে রিসিপসনে কথা বলে ও গেষ্ট এর মোবাইল নাম্বার মিলিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
একই ভাবে রুম ছেড়ে গেষ্ট চলে যাওয়ার সময় রিসিপসনে বিল পরিশোধ সহ কথা বলে চেকআউট হতে হয়। এতো সব প্রক্রিয়ার মধ্যে হত্যাকারীরা কিভাবে রিসোর্ট এলাকা থেকে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল? পূরো বিষয়টি রহস্যেঘেরা মধ্যে রয়েছে।
এদিকে সোমবার ২৮ আগষ্ট সকালে নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নী বেগম বাদী হয়ে পলাতক আসামীদের বিবাদী করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একটি সূত্র জানায়, কক্ষে ৫ জন থাকলেও দু’জনের নাম এন্ট্রি করা হয়। কারণ রাব্বী শ্রীমঙ্গলের অন্য একটি নামীদামি রিসোর্টে চাকুরী করার সুবাদে পূর্ব পরিচিত ছিলো। ফলে বাকী দুইজনের নাম পরিচয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ জানতে পারেনি।
জানা যায়, শুক্রবার ২৫ আগস্ট সকাল প্রায় পৌনে ৮ টার দিকে চাঁদপুরের শাহারাস্তি উপজেলার খাসেরবাড়ি গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মো: নুরুল আমিন রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও মধ্যবয়সী ৩ জন পর্যটক শহরতলীর ডলুবাড়ি এলাকার হোটেল লেমন গার্ডেন রিসোর্ট এর বৃষ্টি বিলাসের রুম নং-৫ এ থাকার জন্য উঠেন।
পরবর্তীতে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে হোটেল স্টাফ সহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রুমে চেকিংয়ের জন্য গেলে ওই রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।
এতে তার সন্দেহ হলে ডাকাডাকির একপর্যায়ে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে হোটেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এদিকে সন্ধ্যার সাড়ে সাতটার দিকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো: মনজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশের ধারণা, নুরুল আমিন রাব্বি তার সংগীয় অজ্ঞাত নামা ২ জনসহ ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক রাত ৮ টা থেকে পরদিন ভোর ৫ টার মধ্যে যে কোন এক সময় ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে কাঠের বড় টুকরো দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হত্যা করে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার জানান, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসামীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না। হত্যা কান্ডের বিষয়ে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।



মন্তব্য করুন