গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন

March 8, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : ‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসহ নারীমুক্তির আন্দোলনকে সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তণের লক্ষ্যে অগ্রসর করুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে ১১৬-তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও সংগঠনের ৩২-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টায় কমলগঞ্জের শমসেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে নারী চা-শ্রমিক নেত্রী লক্ষীমনি বাক্তির সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীন,  চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায় হাজারা, নারী চা-শ্রমিকনেত্রী স্বপ্না গোয়ালা, কাজলী হাজরা, শেফালী রেলী, রেবতী গোয়ালা, নির্জ্বলা রবিদাস, সাবিত্রী নাইড়ু, গৌরী রবিদাস, চা শ্রমিকনেতা সুভাষ গৌড়, সমীরণ রবিদাস, প্রদীপ রেলী, সত্যনারায়ন নাইড়ু, রামনারায়ন গৌড় প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের নেই অধিকার ও মর্যাদা। চা-বাগান, গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস, নির্মাণ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি শিল্প সেক্টরে নিয়োজিত নারী শ্রমিকসহ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, গৃহকর্মী, গ্রামের কৃষাণী তথা শ্রমজীবী নারীদের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি, রক্ত-ঘামঝরা পরিশ্রমে মুনাফার পাহাড় গড়ে দেশের অর্থনীতি চালু রাখলেও নির্মম শোষণের যাতাকলে পিষ্ট এ নারীরা পায় না ন্যায্য ও সমমজুরি। দেশের শিল্প উৎপাদন, বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত জনগণের ওপর চাল-ডাল, তেল-লবন ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দফায় দফায় লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি,  সার-কীটনাশককে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ ভাড়া, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদিতে বিপর্যস্ত জনজীবনে বৈশ্বিক যুদ্ধময় পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি করছে।  সারা দেশের নারী সমাজ তথা শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষ দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জীবন-জীবিকা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজনৈতিক সামাজিক তথা সামগ্রিক সংকট বৃদ্ধি পেয়ে সমাজ জীবনকে অস্থির করে তুলেছে। চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি, খুনোখুনি, নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ ও পাচার সাধারণ ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের জাতীয় ও স্বার্থ বিরোধী চুক্তি সম্পাদন করে মার্কিন পরিকল্পনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে। এই নির্বাচনে মার্কিন আর্শীবাদপুষ্ট ক্ষমতাসীন তারেক রহমানের নেতত্বে জোট সরকারকে অন্তবর্তী সরকারের কার্যক্রমকে বৈধতা প্রদানসহ সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী মুক্তির লক্ষ্যে শোষিত-বঞ্চিত নির্যাতিত নারী-পুরুষ আপামর জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অনটন-সমস্যা-সংকটের জন্য দায়ী প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়, নারী উন্নয়ন নিয়ে নানা রকম গালভরা বুলি শুনালেও দেশের অধিকাংশ নারীরা, বিশেষত শ্রমজীবী নারীগণ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের নেই কোন মজুরি কাঠামো, তেমনি নেই কর্মের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারীর জীবন-জীবিকার সমস্যার সাথে জড়িত। বাংলাদেশের নারী সমাজ তথা শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। এর জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিকে উচ্ছেদ করা ছাড়া নারী মুক্তি অর্জিত হতে পারে না। এই সত্যকে আড়াল ও অস্বীকার করে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক গোষ্ঠি ও এনজিওরা নারী পুরুষের মধ্যকার বিভক্তি বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজের দায়িত্ব নারী মুক্তির লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com