হাকালুকি হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : বোরো ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা: চাষীরা হতাশায়

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, সেই আশায় কয়েক দিনের মধ্যে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলবেন, কিন্তু এর আগেই পাহাড়ী ঢলে হাওরাঞ্চলের এক মাত্র ফসল বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের পাকা ও আধাকাঁচা ফসল বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে ঢলের পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান গাছ পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাওর পারের মানুষের পূরো বছরের খাবার ও জীবিকা নির্ভর করে এই বোরো ধান সুষ্টু ভাবে ঘরে তোলার উপর।
কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর, কাউয়াদিঘি হাওর সহ ছোট বড় কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে বোরো ধান হারিয়ে যাওয়ায় নি:স্ব হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। পরিবার পরিজন নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তায় এখন বোরো চাষীরা উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। টানা বৃষ্টিপাতে জুড়ী, ফানাই, কন্টিনালা, সোনাই নদী ও বিভিন্ন ছড়া দিয়ে হাওরে হঠাৎ ঢলের পানি প্রবেশ করে ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারে ২৫ এপ্রিল সকাল থেকে ২৯ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৩১১ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বুধবার ২৯ এপ্রিল হাকালুকি হাওরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের শশারকান্দি, বাদে ভুকশিমইল, বেড়কুড়ি এলাকা সরজমিনে মাঠ পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বুক ও গলা সমান পানি থেকে ধান কর্তন করে নৌকায় নিয়ে আসছেন। অনেক স্থানে স্থুপদিয়ে রাখা ধান পঁচে নষ্ট হচ্ছে।
শশারকান্দি গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া জানান, ব্রি-ধান ৯২ প্রায় ১৫ বিগা জমিতে চাষ করেন ঋন করে। মাত্র ৩ বিগা জমির ধান কাটতে পেরেছেন। বাকী ১৩ বিঘা জমির ধান পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। পানি দ্রুত কমলে ধান ঘরে উঠাতে পারবেন। বেশী সময় গেলে ধান পঁচে নষ্ট হবার সম্বাবনা রয়েছে।
বাদে ভুকশিমইল গ্রামের কৃষক আশুক মিয়া জানান, ১০ বিগা জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। মাত্র ৪ বিগা জমির ধান কাটতে পেরেছেন। যদি পানি কমে বাকী জমির ধান কাটতে পারবেন। এই এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম জানান, ৯ বিগা জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। ৩ বিগা জমির ধান বুক সমান পানির নীচ থেকে কেটে নৌকা করে এনেছেন। বৃষ্টি না থামায় কর্তনকৃত ধানও শুকানো যাচ্ছেনা। একমাত্র ফসল বোরো ধান তুলে পূরো বছরের তাদের খাবার চলে। ধান নষ্ট হওয়ায় এ বছর তাদের কিনে খেতে হবে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, চলতি বছরে রোরো ধানের আবাদ হাওর এবং নন-হাওর এলাকা মিলিয়ে মোট ৬২,৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ২৭,৩৫৫ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৩৫,০৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭৯৭ হেক্টর বোরো ধান। হাওর এলাকায় এলাকায় ইতিমধ্যে ৮২% ধান কাটা শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে মাত্র ১৮%। নন-হাওর এলাকা: এখানে এখন পর্যন্ত ২২% ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
যেসব ধানের শীষ পানির ওপরে অন্তত ৫-৬ ইঞ্চি জেগে আছে, কৃষকরা তা কষ্ট করে কাটতে পারছেন। তবে যেসব জমি পুরোপুরি ডুবে গেছে, সেগুলো কাটা বেশ কঠিন। নিমজ্জিত ধানগুলো বড়জোর ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে, এর বেশি সময় পার হলে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজী আবাদ হয়েছে ৬,১১৫ হেক্টর, অতিবৃষ্টিতে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭২ হেক্টর, আউশ বীজতলা অর্জিত ৪০১ হেক্টর, নিমজ্জিত হয়েছে ১৬ হেক্টর।



মন্তব্য করুন