১৫৭-তম লেনিন দিবস ও ৭৭-তম খাপড়া ওয়ার্ড দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজার এনডিএফ’র আলোচনা সভা

April 26, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রমিক শ্রেণির মহান শিক্ষাগুরু মহামতি কমরেড লেনিনের ১৫৭-তম জন্মদিন ‘লেনিন দিবস’ এবং ৭৭-তম খাপড়া ওয়ার্ড দিবস উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে জেলা এনডিএফ সহ-সভাপতি মো: নুরুল মোহাইমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি নিরজ্ঞন দাশ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো: সুহেল মিয়া, এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন, শ্রমিকনেতা মো: জসিম উদ্দিন।

লেনিন দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন মার্কস-এঙ্গেলসের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে কমরেড লেনিন ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে মার্কসবাদকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পৃথিবীর বুকে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে মানুষ কতৃক মানুষকে শোষণের অবসান করে নতুন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করেন। ১৯১৭ সাল থেকে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির পীঠস্থান। ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র সোয়িয়েত ইউনিয়নের পার্টি ও রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটায়; ১৯৯০-৯১ সালে যার উলঙ্গ প্রকাশ ঘটে। কমরেড লেনিন ১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল রাশিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯২৪ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

এমন সময় লেনিন দিবস পালিত হচ্ছে যখন পুঁজিবাদের অসম বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী পুঁজি ও শক্তির অনুপাত পরিবর্তিত হওয়ায় বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বণ্টন নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ সংগঠিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে মুদ্রাযুদ্ধ, বাণিজ্যযুদ্ধ ও স্থানিক এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ বিস্তৃত হয়ে পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহারসহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ-যার একদিকে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যদিকে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী চীন ও রাশিয়া। আন্ত্রঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের আরেকটি ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ। আর্ন্তজাতিক পরিস্তিতির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ এতদ্বাঞ্চলে। নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী চীন ও রাশিয়ার আধিপত্য, প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়ে চলেছে। প্রতিবেশি মিয়ানমারে সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনায় গৃহযুদ্ধময় পরিস্থিতি বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ, আমলা-দালাল পুঁজির নির্মম শোষণ-লুণ্ঠন এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারের নির্মম শাসনে শ্রমিক-কৃষক জনগণের জীবন আজ আরো দুর্বিষহ ও বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি-মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি, গ্যাস, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতিতে শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে জীবন জীবিকা আরো সংকটগ্রস্থ ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। দেশের শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি জনগণ এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। তাই মহামতি লেনিনের শিক্ষা নিয়ে এদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ, আমলা-দালাল মুৎসুদ্দি পুঁজি উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অগ্রসর করতে হবে।

খাপড়া ওয়ার্ড দিবসের উপর আলোচনা করে বক্তারা বলেন ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল উপমহাদেশের প্রথম জেল হত্যাকান্ড খ্যাত রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে নয়াঔপনিবেশের পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক কমিউনিষ্ট রাজবন্দীদের উপর নারকীয় তান্ডব চালিয়ে ৭ জন কমিউনিস্ট নেতাকে হত্যা এবং অনেকে আহত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ পর্দার আড়ালে গিয়ে কার্যকর করে নয়াঔপনিবেশক ব্যবস্থা। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতিতে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্টি করে নয়াঔপনিবেশক পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রের, অসম্পূর্ণ থেকে যায় জাতীয় মুক্তি ও প্রকৃত স্বাধীনতার সংগ্রাম। কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে শ্লোগান দেওয়া হয় ‘ ইয়ে আজাদী ঝুটা হেয়, লাখো ইনসান ভূখা হেয়’। যার কারণে কমিউনিস্টদের উপর নেমে আসে অত্যাচার নিপীড়ণের স্টিম রোলার, শত শত কমিউনিস্টদের বিনা বিচারে জেলে আটক করা হয়। এমন এক প্রেক্ষাপটে জেলে কয়েদীদের অধিকার প্রতিষ্টার দাবিতে অনশন আন্দোলনের এক পর্যায়ে নির্বিচারে গুলি করে ৭ জন বীর কমিউনিস্ট নেতাকে হত্যা করা হয়, অল্পের জন্য বেঁচে যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড আবদুল হক। খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকান্ডের মাধ্যমে নয়াঔনিবেশিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরিত্র উন্মোচণ হয়। তাই আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত কমিউনিষ্ট বিপ্লবীনেতারা ঊর্দ্ধে তুলে ধরেছেন সেই শিক্ষাকে সামনে রেখে জাতীয় মুক্তি, গণতন্ত্র ও প্রকৃত স্বাধীনতার সংগ্রামকে বেগবান করা প্রত্যেক দেশপ্রেমিকে একান্ত কর্তব্য।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com