কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী সীমা হ/ত্যা মাম/লার আসা/মীদের গ্রে/ফতারের দাবীতে মানববন্ধন

July 11, 2026,

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়া মডেল হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী হালিমা জান্নাত সীমা (১৩) হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার ১০ জুলাই বিকেলে পৌর শহরের চাতলগাঁও গ্রামে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম, ব্যবসায়ী রুজেল আহমদ, লিলু মিয়া, নিহত সীমার পিতা গিয়াস উদ্দিন। এসময় বক্তারা বলেন, ১৩ বছরের একটি ফুটফুটে নিষ্পাপ মেয়েকে পরিকল্পিভাবে হত্যা করলেও তিন মাসেও কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা অবিলম্বে সীমা হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান।

এদিকে নিহত সীমার পিতা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১৮ জুন মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নং আমলি আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী করা হয়, চাতলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিয়ার স্ত্রী কুলছুমা বেগম (৩৫), জয়চন্ডী ইউনিয়নের বিজয়া গ্রামের কনা মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন মিয়া (৩২),  চাতলগাঁও গ্রামের মৃত আকল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৫০), লিলু মিয়ার স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫), রনি মিয়ার স্ত্রী হামিদা বেগম (৪১), রাজু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া (৩৫)।

আদালতে দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার ১ নং আসামী কুলছুমা বেগম হলেন চাতলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত আকল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়ার স্ত্রী। কুলছুমা তার স্বামী রাজু মিয়ার প্রশ্রয়ে নিজ বসতঘরে বহিরাগত লোকদের এনে অসামাজিক কার্যকলাপ করতেন। এসব বিষয়ে রাজু মিয়ার ভাই গিয়াস উদ্দিন প্রতিবাদ জানালে কোন প্রতিকার মিলেনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার সালিশী বৈঠক হয়। গত বছরের ২১ নভেম্বর কুলসুমা বেগম তার মেয়ে সুনিয়া বেগমের স্বামী আলাউদ্দিন মিয়ার সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করার সময় বিষয়টি দেখে ফেলে গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে হালিমা জান্নাত সীমা। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য নির্দেশ দেন কুলসুমা ও আলাউদ্দিন। পরে সীমা তার বাবা-মাকে বিষয়টি অবগত করলে সীমার পিতা গিয়াস উদ্দিন তার ভাই রাজুকে বিষয়টি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হন কুলসুমা ও আলাউদ্দিন। পরবর্তীতে সীমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন চলতি বছরের ১৮ মার্চ সকালে কাজের জন্য সীমার পিতা বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যান। ওইদিন সকাল আনুমানিক দশটায় গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী রিনা বেগম তার স্বামীকে জানায় মেয়ে সীমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আধা ঘন্টা পর গিয়াসের ভাতিজা রনি আহমদ জানায়, সীমা গলায় ফাঁস লাগানো। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ওইসময় আসামীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহত সীমার মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ সীমার পিতা গিয়াসের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে সীমা আত্মহত্যা করেছে মর্মে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-৭, ১৮/০৩/২০২৬) দায়ের করে।

এ বিষয়ে নিহত সীমার পিতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও কোন সহযোগিতা পাইনি। রহস্য উদঘাটনে আসামীদের কাছে গিয়েছি কারণ তারা আমার আত্মীয়। কিন্তু তাদের রহস্যজনক আচরণে আমার সন্দেহ তৈরি হয়। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। আমার ভাইয়ের স্ত্রী কুলসুমা বেগম তার মেয়ের স্বামীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। সেই ঘটনাটি আমার মেয়ে দেখে ফেলায় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে। পরে তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালায়। আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর রহস্য জেনে ফেলায় আসামীরা আমাকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। বিজ্ঞ আদালত ও প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন হবে। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যা করছি এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামী কুলছুমা বেগম বলেন, এই ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। সীমার সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই। আপনারা তদন্ত করে দেখুন বিষয়টি সত্য না মিথ্যা। নিজের জামাতার সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনাটি থানায় সার্কেল অফিসে বৈঠক করে সমাধান করা হয়েছে। মীমাংসিত এই ঘটনার সাথে সীমার ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই।

কুলাউড়া থানার এসআই আব্দুল আলিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন আসায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com