টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কাঁচাবাজার চড়া

October 22, 2017,

ওমর ফারুক নাঈম॥ দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। ডুবে গেছে মৌলভীবাজারের নিচু পাড়া-মহল্লা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মৌলভীবাজার শহরের সর্বস্তরের জনগণ। এছাড়া বৃষ্টির জমা পানি বাজার থেকে নামতে শুরু করলেও সবজির দাম নামেনি। উল্টো বেড়েছে কাঁচামরিচ, শিম, গাজরসহ অন্যান্য সবজির দাম।

টানা বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজার, টিসি মার্কেট ও কোর্ট বাজারে স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে অনেক বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রি বন্ধ রয়েছে।  ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই পড়েছেন বিপাকে। কোথাও কোথাও তরিতরকারি পচেও যাচ্ছে। ফলে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে বেড়েছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, পশ্চিমবাজারের কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। ক্রেতা আসলেও দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। শহরের অন্য কাঁচাবাজারেরও একই অবস্থা। এসব বাজারে কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় বাজারে সবজি কম। তাই দামও চড়া।

প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি বরবটি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০, ঢেঁড়স ৫০, করলা ৬০, পটোল ৫০, শশা ৫০ ও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৮-২০ টাকায়। একইভাবে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৬০-৭০ টাকা, রসুন ৭০-৯০, আমদানিকৃত রসুন ৯০-১১০ ও  প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১০০-১৫০ টাকায়। প্রতি কেজি পেঁপে ২৫, টমেটো ১৪০, ধুন্দুল ৪০ ও মুলা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।

লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০, লালশাক প্রতি আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০, কলমি শাক ২০, পুঁইশাক ৬০, পাটশাক ১৫ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে প্রতি কেজি রুই মাছ ২০০-৩০০ টাকা, কাতল মাছ ২৫০, শিং মাছ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি হালি ডিম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ভারতীয় ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোলার তৈরি বেসন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

অন্যদিকে সপ্তাহজুড়ে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের দাম। মৌলভীবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকায়।

ক্রেতা আব্দুল আহাদ বলেন, বৃষ্টির অযুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে নিম্ন মধ্যবিত্তরা চরমে দুর্ভোগে পড়েছেন, এটা সত্যিই খুবই দুঃখজনক। বাজার সঠিকভাবে মনিটরিং না হওয়াতে ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধি করছেন বলে মন্তব্য করেন এই ক্রেতা।

পশ্চিমবাজারের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান সজিব সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে শহরে মালামাল আসছে না এবং মালামাল আনতে গিয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আশা করি বৃষ্টি কমে গেলে বাজার দর পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com