কেমন গেল মৌলভীবাজারবাসীর ২০১৭ সাল?

December 27, 2017,

আশরাফ আলী॥ ২০১৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনটি ছিল রবিবার অন্যদিকে ২০১৭ সালের শেষ দিনটিও হবে রবিবার ৩১ ডিসেম্বর। এই বছরে মৌলভীবাজারের পরিবেশ কেমন ছিল। কেমন কেটেছিল বছরটি মৌলভীবাজারবাসীর। বিশেষ করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। মৌলভীবাজারের সচেতন মানুষ বলেছেÑ২০১৭ সালটি ছিল মৌলভীবাজারবাসীর জন্য একটি কঠিন সময়। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় গভীর উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মৌলভীবাজার জেলাবাসী মোকাবেলা করতে হয়েছে কঠিন পরিস্থিতির। আইনশূংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে পার হয় বছরটি।

এবছর জেলার কয়েকটি ঘটনা সারাবিশ্বে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। তার মধ্যে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, লংন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশী নিহতের ঘটনা, কুয়েতে একই পরিবারের ৫জন নিহতের ঘটনা।

এছাড়াও ছিল জেলার কৃষকদের হাহাকার। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গিয়েছিল জেলার হাওরের সকল বোরো ধানের জমি। যার ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। এখনো পর্যন্ত এ সমস্যা কাঠিয়ে উঠতে পারছেন না জেলার কৃষকরা।

জেলা জুড়ে ৬ মাস ব্যাপী কয়েকদফা সৃষ্ট বন্যায় হাওরপাড়ের মানুষগুলো পড়েন বিপর্যয়ে। পরিবারগুলো হয়ে পড়ে নিঃস্ব। সেই দূর্ভোগের ছোয়া লাগে জেলা জুড়ে। বন্যার ফলে জেলার অনেক রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যায়। এখনো মেরামত হয়নি রাস্তাগুলো।

মৌলভীবাজারবাসীর জন্য আরো উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনার মধ্যে অন্যতম হলো ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধে দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুন, বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নে একই পরিবারের ৩জন খুন সহ অনেক ঘটনা।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়, মৌলভীবাজার জেলায় ২০১৭ সালে মোট খুন হয়েছে ৫৮টি। বাসাবাড়িতে ডাকাতি হয়েছে ১০ টি। দস্যুতা হয়েছে বাড়িতে ২টি, রাস্তায় দস্যুতা হয়েছে ১৪টি। অপহরণ হয়েছে ৫টি। নারী নির্যাতন মধ্যে ধর্ষণ ২৩টি ও অন্যান্য ৬৭টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫০টি। চুরি হয়েছে গবাধি পশু ২৮টি, গাড়ি ২২টি, সিধেঁল ৫টি, অন্যান্য জিনিষ ৬১টি, পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে ৬টি স্থানে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১৭ সালে মোট অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ৯টি। মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে ৪৭২টি। চোরা চালানের দায়ে মামলা হয়েছে ২০টি। এ তিনটি ধারায় মামলা হয়েছে ৫০১টি। অন্যান্য খাতে মামলা হয়েছে ১০০৩টি। মোট রুজু কৃত মামলা ১৮৪৯টি। এ বছর বিভিন্ন মামলায় আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে ১৭৩০জন।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, আইন শূংখলা পরিস্থিতি ভালো ছিল। আইনশৃংখলা বিরোধী ঘটনাগুলোর ব্যাপারে পুলিশ তৎপর ছিল। খুনের যে সকল ঘটনা ঘটেছে এগুলো বেশীরভাগ ঘটনা ঘটেছে ব্যক্তিগত কারণে। মানুষের অপরাধ চাপিয়ে রাখার প্রবণতার কারণে কিছু ঘটনা ঘটেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com