হাফিজা খাতুন স্কুলের ছাত্রীরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

January 1, 2018,

ইমাদ উদ দীন॥ মৌলভীবাজার শহরের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ জন খন্ড কালিন শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানী প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের দাবী ছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদ মিয়াকে বহিস্কার। ছাত্রীদের উত্তেক্তকরার জন্য মাহমুদ মিয়াকে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি এবং খন্ডকালীন শিক্ষকদের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার। এমন দাবী দাওয়া সম্বলিত নানা স্লোগান লিখিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অব্যাহতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনা এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদ মিয়াকে বহিষ্কারের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ  ঘটনাস্থলে এসে সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা রাস্তা থেকে সরে আসেন।

৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে স্কুলের সামনের সড়কে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের ৬ জন ভাল শিক্ষককে ম্যানেজিং কমিটি বিনা কারনে চাকুরি থেকে অব্যাহিত প্রদান করেন। এছাড়া স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদ মিয়া ক্ষমতার প্রভাবে ছাত্রীদের নানা ভাবে যৌন হয়রানী করে যাচ্ছেন। এতদিন লজ্জায় ঘৃণায় মানসম্মানের ভয়ে তারা মুখ খোলেননি। এখন বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তারা বলেন আমাদের দাবী না মানা পর্যন্ত আমার বিভিন্ন কমর্সূচি পালন করে যাব। তবে এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহমুদ মিয়া জানান বিষয়টি তিনি জানেন না। তা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বলতে পারবেন। তিনি বলেন এটি তার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষীমহলের অপপচার। অভিবাকরা জানান, এই শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবত স্কুলে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে আসছেন কিন্তু বর্তমানে হঠাৎ করে তাদেরকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হল তা তারা জানেন না। তাছাড়া ছাত্রীদের হয়রানীর বিষয়টি নিয়ে তারা ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বাচ্চু এসে আন্দোলনরত সবাইকে আশ্বস্থ করে চাকরিচ্যুত ছয় শিক্ষককে পূণর্বহাল এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহমুদ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয় এবং তাদের আন্দোলন থামায়। তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হঠাৎ করে শরু হওয়ায় তাদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছিলনা । তিনি স্কুলের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি রক্ষায় সকলের সহযোগীতা চান।

 

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com