রাজনগরে কমর বাহিনীর আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া : সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

January 6, 2018,

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজনগরের বেতাহুঞ্জা গ্রামের কমর উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে একটি প্রবাসী পরিবার। কমরুদ্দিন ও তার বাহিনীর অত্যাচার ও তান্ডবের কারণে কয়েকটি পরিবার এখন গ্রামছাড়া। কিন্তু লাটিয়াল বাহিনীর জোরে সে কোন কিছুতেই তোয়াক্কা করছে না। একের পর এক কান্ড ঘটিয়ে গ্রামের ও আশপাশ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে ৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারে পক্ষে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হাকিম বলেন, বেতাহুঞ্জা গ্রামে তারা মোটামোটি স্বচ্ছল পরিবার হিসাবে গণ্য। আমিও এক সময় প্রবাসে ছিলাম। বর্তমানে দেশে বসবাস করছি। আমার বড় ভাইও প্রবাসে অবস্থান করছেন। আমাদের স্বচ্ছল অবস্থাকে কমরুদ্দিন সুনজরে দেখতে পারেননি। তাই নানান ভাবে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করে আসছিল। আমার পাশের বাড়ির সাথে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সে আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে। বিরোধ মীমাংশার লক্ষে সালিশ বসলে এবং সার্বেয়ার কর্তৃক মাফজুক দেয়ার ফলে প্রমাণিত হয় যে, আমার বাড়ির অংশ এবং সংলগ্ন বাড়ির রাস্থায় আমাদের মালিকানাধীন জমি আছে। পাশের বাড়ির কোন জমি নাই। বরং তাদের সীমানায় আমাদের জমি রয়েছে। এই উল্টা বাস্থবতার মুখে কমরুদ্দিন পূরনো ম্যাপের আলোকে মাফজুক দেবার কথা বলে বিষয়টি অমীমাংসিত রাখে। তারপর এক পর্যায়ে আমার নিকট ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। এই বায়না আমি অস্বীকার করলে কমরুদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে আমার বাড়ির সীমানা প্রাচীর ঘেষে খাল খনন করে, যাতে দেওয়াল ভেঁঙ্গে পড়ে।
এছাড়া রাস্তা দিয়ে চলচলে আমাদেরকে আপত্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি ২০১৪ সনের এপ্রিল মাসের। রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে চলাচলে বাঁধা দেওয়াতে ৪০ বিঘা জমির ফসল বহুলাংশে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ বিষয় থানাতে জিডি করা হলে রাজনগর থানার পুলিশ সরজমিনে এসে বিষয়টি অবহিত হয় এবং কমরুদ্দিনকে দোষারোপ করেন। কিন্তু পুলিশী বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে কমরুদ্দিন তার ছেলে ও বাহিনীর লোকজন পথে-ঘাটে আমাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ অব্যাহত রাখে। ফলে আমরা কোটের্র আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হই এবং আমলী আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা (পিটিশন ৩৫/১৫) দায়ের করি। কোর্টের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের ভার বর্তায় পিবিআই এর উপর। পিবিআই পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে গেলে, পুলিশের সম্মুখেই আমাদেরকে মারপিট করে প্রতিপক্ষ কমরুদ্দিনের লোকজন। পিবিআই পুলিশ ঘটনাটিকে জেলা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেন। এই চাঁদাবাজির মামলাটি যখন কমরুদ্দিনের গলার কাঁটা হয়ে উঠে তখন এটি নিষ্পত্তির জন্য উঠে পড়ে লাগে।
এক পর্যায়ে থানা ও জেলা পর্যায়ের সালিশে দুই পক্ষ বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে আপোষ নিষ্পত্তিতে আসি। শর্তানুযায়ী রাস্তার বিরোধ মীমাংশা এবং ও এক পক্ষ অন্য পক্ষের সাথে ভবিষ্যতে বিরোধে যাবে না বলেও শর্তে উল্লেখ ছিলো। তারপর উভয় পক্ষের সমঝোতা লিপি অনুসারে মামলা উঠানো হয়। কিন্তু কমরুদ্দিন এবং তার দল বল আমাদের পিছু ছাড়েনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করেন গত ২০১৬ইং সনের ডিসেম্বর মাসে তার বড় ভাই আব্দুল হাসিম কুয়েত থেকে দেশে আসার পর প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালায়। সম্প্রতি স্থানীয় মোকামবাজারের ব্রিজের নিকট দলবদ্ধভাবে কমরুদ্দিনের বাহিনী তাদের উপর হামলা চালায়। আমাদের সঙ্গীরা হামলা প্রতিহত করলেও আমি নিজেও মারাতœক ভাবে আহত হই। এ নিয়ে উভয় পক্ষ রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় কমরুদ্দিন সহ ৪ জন হাজত বাস করে মুক্তি পায়। মামলার জের হিসাবে মামলার খরচ বাবদ ৭০ হাজার টাকা দাবী করে এবং মামলাটি উঠিয়ে আনার জন্য আমার বাড়িতে গিয়ে আমার বাবাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের হুমকিতে এখন আমি সহ আমার এক চাচা ও আরেক চাচাত ভাই বাড়ি ছাড়া অবস্থায় আছি। বৃদ্ধ পিতা নামাজের জন্য মসজিদে গেলে কমরুদ্দিনের ছেলে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাকে হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে রাজনগর থানায় জিডি করা হয়েছে। কমর উদ্দিনের লাটিয়াল বাহিনীর দাপটে শুধু বেতাহুঞ্জা গ্রাম নয় সংশ্লিষ্ট এলাকা ও আতঙ্কগ্রস্থ গত ২০০১ সনের নির্বাচনের পর মোকামবাজার এলাকায় যে সন্ত্রাস হয়েছিল তার অন্যতম হোতা এই কমরুদ্দিন।
২০১৪ইং সনে মুকামবাজার দাঙ্গাঁ, ছাত্রলীগ নেতা শাহীন হত্যা এবং ২৬টি দোকান লুট পাটের নায়ক এই কমরুদ্দিন ও তার বাহিনী। স্থানীয় ব্যবসায়ী মঙ্গল মিয়া বাদী হয়ে এ ব্যাপারে মামলা করেছেন। এই মামলায় কমরুদ্দিন সহ তার বাহিনীর অনেককেই আসামি।
গরু চুরি সহ অন্যান্য অপরাধ মুলক মামলায় কমরুদ্দিন অন্যতম আসামি এবং তার ছেলে সিরাজুল, গোলজার ও রাজু আরও কয়েকটি মামলার আসামি। গত ২০১২ সনে মোকাম বাজারে ছাত্রলীগের ১টি মিটিংয়ে কমরুদ্দিন বাহিনী হামলা করেছিল এবং বঙ্গবন্ধু প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেছিল। এই ব্যাপারে মামলা আছে। মৌলভীবাজার কোর্টে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে বেতাহুঞ্জা গ্রামের লকুছ মিয়া ও মুহাম্মদ আলীর উপর কোর্ট প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছিল কমরুদ্দিন বাহিনী। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আইনের শাসন আছে বলে আমরা মনে করি। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এবং মৌলভীবাজার মডেল থানার এক স্মারক বলে রাজনগর থানার সেকেন্ড অফিসার কমরুদ্দিন ও তার বাহিনীর ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত করে অনেক মামলার আসামি হিসাবে কমরুদ্দিন, তার ছেলে ওসহযোগীরা দুস্কৃতিকারী বলে রিপোর্ট দিয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছে।
আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে কমরুদ্দিন ও তার বাহিনী একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে চলছে। তার নেপথ্য শক্তি বলেই অঘটন ঘটাচ্ছে। তাই এলাকাবাসী এবং আমরা আতঙ্কিত অবস্থায় আছি। বাড়ি ছেড়ে বাহিরে এক প্রকার পলাতক অবস্থায় রয়েছি। এমতাবস্থায় দুর্বৃত্ত ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। তার পাশাপাশি আমাদেরকে এলাকায় অবাধ চলাচল এবং বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের জন্য নিরাপত্তা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আছারুন বিবি, রুসনা বেগম, লকুছ মিয়া,সেলিনা বেগমসহ গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com