এক বছরে খুন হয়েছেন ৫৮ জন আলোচিত ছিল দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুন

হোসাইন আহমদ॥ গেল এক বছরে মৌলভীবাজার জেলায় খুন হয়েছেন ৫৮ জন। এর মধ্যে খুন হওয়া ৫৭ জনের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। এর বাহিরে সংঘঠিত যে সকল খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি এটা পুলিশের তালিকায়ও আসেনি। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্ধে খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহির পরিবার মামলা না করায় এটাও পুলিশের তালিকায় আসেনি।
তালিকাভোক্ত খুন গুলোর মধ্যে আলোচিত ছিল ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী শাবাব ও নাহিদ আহমদ মাহিকে চুরিকাঘাত করে হত্যা। ওই ঘটনার ২৯ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি মামলার প্রধান আসামীসহ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত পরিবারের অভিযোগ রহস্যজনক কারণে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করছে না। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও এপর্যন্ত প্রশাসনের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যার কারণে জেলা ব্যাপী ওই খুনের ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার মামলার ২নং আসামী আরাফাত রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, জেলার ২৭৯৯ বর্গ কিঃ মিঃ জায়গার মধ্যে জানুয়ারীতে ৮, ফেব্রুয়ারীতে ৩, মার্চে ১, এপ্রিলে ২, মেতে ৪, জুনে ৮, জুলাইতে ৫, আগষ্টে ৫, সেপ্টেম্বরে ৪, অক্টোবরে ৩, নভেম্বরে ৬ ও ডিসেম্বর মাসে ৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। মহান স্বাধীনতার মাসেও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ছিল। এই মাসেই ৮টি খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়।
৫৮টি খুনের ঘটনায় জেলা জুড়ে আলোচিত ছিল ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী বিধূ ভূষণ দাসের হাতে স্ত্রী স্মৃতি রাণী দাসকে দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা। স্বামীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে। জুড়ী উপজেলায় অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১৬ ডিসেম্বর রিয়াজকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ডোবার পানিতে পুঁতে রাখে আমীর আলী। ঘটনার তিন দিন পর রিয়াজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের শশুড় বাড়িতে ২৩ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩০) কে গলাকেটে হত্যা করে স্বামী রফিক মিয়া। এসময় রফিক মিয়ার ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি সোনাজান বিবি (৫৫) শ্যালিকা নাজমা বেগম (১২) গুরুত্বর আহত হন। পরবর্তীতে ঘাতক রফিক মিয়াকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। একই উপজেলায় পূর্ব কর্মধা গ্রামে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা ইসমাইল আলী (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। রাজনগর উপজেলায় টেংরা ইউনিয়নের কাছাড়ী করিমপুর গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে ও তারাপাশা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মি আখতারকে ১৮ মে রাতে ডেকে নিয়ে গণধর্ষনের পর হত্যা করে বাড়ির অদূর জঙ্গলে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের আলিশারকুল এলাকায় ২১ ডিসেম্বর ভাবি ছালেহা বেগমকে (৫৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে দেবর নুর মিয়া। এ ঘটনায় দেবর নুর মিয়াকে আটক করে পুলিশ। কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলের হাওর গ্রামের মুসলিম মনিপুরী সম্প্রদায়ের দরিদ্র কৃষক কায়াম উদ্দীনের মেয়ে রাবিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের পর ধলাই নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয় দুলাভাই দেলওয়ার। দেলওয়ার আদমপুর ইউনিয়নের মাটিয়া মসজিদ এলাকার বাসিন্দার।
এবিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় আসামীদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। গ্রেফতার না করতে উপর মহলের চাপ নেই আমাদের উপর। খুনিরা আত্ম গোপনে থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। খুনিরা দেশে না বাহিরে চলে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়ত দু-একজন বাহিরে যেতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত নয়।



মন্তব্য করুন