হঠাৎ বেড়েছে ঠান্ডার প্রকোপ দূর্ভোগে নিন্ম আয়ের মানুষ : সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস

মু. ইমাদ উদ দীন॥ মৌলভীবাজারে গেল ক’দিন ধরে হঠাৎ বেড়ে চলেছে শীতের তীব্রতা। প্রচন্ড ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বিপাকে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। চরম দূর্ভোগে পড়েছেন নিন্ম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগবালাইও। তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হিম শিম খাচ্ছেন চা শ্রমিকসহ বির্পযস্ত নদী ও হাওর পড়ের মানুষ। কারন গেল বছর মার্চ থেকে শুরু হওয়া বন্যা ও দীর্ঘ জলাবদ্ধায় হাওর তীরের বাসিন্দারা সব হারিয়ে হয়েছেন নি:স্ব। এখন শীত মোকাবেলায় তাদের নেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা যায় জেলার উপর দিয়ে কয়েক দিন থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। জেলার তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রী থেকে এখন নেমে এসেছে ৭.৬ ডিগ্রীতে। হঠাৎ তাপমাত্রার এমন বিশাল ব্যবধান এ এলাকায় একটু বেশি শীত অনুভুত হচ্ছে। গেল কয়েকদিন থেকে দিনের অধিকাংশ সময়ই দেখা মিলছেনা সূর্যের আলোর। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলা যানবাহন গুলো চলছে লাইট জ্বালিয়ে। এ অবস্থায় এ জেলার নিন্ম আয়ের মানুষেরা চরম কষ্ঠে দিনানিপাত করছেন। এদিকে গতকাল রবিবার মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা আরো নিচে নেমেছে। রবিবার সকালে শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে ৭.৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান আবহাওয়া পর্যবেক্ষক হারুনুর রশিদ।
তিনি জানান, ৩ জানুয়ারী শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিলো ১৬.৯ ডিগ্রী ৪ জানুয়ারী তা নেমে আসে ৮.৬ ডিগ্রীতে ৫ ও ৬ জানুয়ারী ছিলো ৯.৪ ডিগ্রীতে আর রবিবার ৭ জানুয়ারী তা নেমে এসেছে ৭.৩ ডিগ্রীতে। নতুন বছরের শুরুতেই মৌলভীবাজার জেলায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে ও ঠান্ডা বাতাসে হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলার জনজীবন বির্পযস্থ হয়ে পড়েছে। সকাল সন্ধ্যা খড়কুট জ্বালিয়ে অনেকে আগুনের তাপ নিচ্ছেন। রাতে বৃষ্টির ন্যায় কুয়াশা ঝরছে।


বিশেষ করে শেষ রাত ও ভোর বেলায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় গোটা জেলা। সাথে বয়ে চলে হিমেল বাতাস। শীতের কারণে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ঠান্ডা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত তারা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এজন্য যাত্রাপথে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়। ভয় থাকছে সড়ক দূর্ঘটনারও। যাত্রীবাহী বাস ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার আসতে যেখানে সময় লাগে সাড়ে ৪ ঘন্টা। এখন সেখানে সময় লাগছে ৬ থেকে সাড়ে ৭ ঘন্টা। প্রচন্ড শীতের কারনে ব্যহত চাষাবাদও।
বিশেষ করে বোরো চাষীরা প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে কাজ করা নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। একই অবস্থা এ জেলার চা শ্রমিকদেরও। কনকনে শীতের মধ্যে সকাল থেকেই কাজে যেতে হচ্ছে তাদের। শীত অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় গরম কাপড় না থাকায় কৃষিজীবী, শ্রমজীবী ও চা শ্রমিকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। প্রচন্ড এই শীতের হাত থেকে রক্ষায় জেলার নিন্ম আয়ের মানুষের পাশে সরকারসহ বৃত্তবানরা এগিয়ে আসবেন এমনটাই দাবী শীতার্থদের। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান প্রধান মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২৫ হাজার ২শ পিছ কম্বল বরাদ্ধ এসেছে। অপরদিকে দূর্যোগ ও ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে আরো ১২ হাজার ৭৮৯ পিস কম্বল পুরো জেলার জন্য বরাদ্ধ এসেছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্দ্যোগে বিভিন্ন স্থানে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন