ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় দৃষ্টি হারিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী লুবনা : সুষ্টু বিচারের দাবী পরিবার ও স্বজনদের

January 7, 2018,

স্টাফ রিপোর্টার॥ ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু পথ যাত্রী লুবনা। এখন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। চিকিৎসাধীন লুবনার এমন করুণ পরিণতিতে অসহায় পরিবার। তার স্বামী ও চার সন্তান অঝোরেই কাঁদছেন। কিছুতেই থামছেনা কান্না। চোখের জলই তাদের স্বান্তনা। দিন দিনই অবস্থার অবনতি হচ্ছে চিকিৎসাধীন লুবনা খানমের।

৭ জানুয়ারী রোববার মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে স্বামী আব্দুস ছালাম তাদের চার সন্তান সহ লিখিত বক্তব্যে লুবনার স্বামী আব্দুস ছালাম বলেন আমার স্ত্রী লুবনা খানম কোমরের ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য গত ২৭/০৫/২০১৭ইং শনিবার অনুমান সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল রোডস্থ বেরীর পাড়ে আইকন মেডিক্যাল সার্ভিসেস এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারস্থ ডাঃ তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে দেখাই। তিনি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একজন কনসালটেন্ট। ডাঃ তারেক আহমদ আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেন এবং কয়েকটি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। আমি তার পরামর্শ অনুযায়ী প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাই। এমতাবস্থায় গত ১৩/০৬/১৭ইং আমার স্ত্রীকে নিয়া পুনরায় ডাঃ তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে গেলে তিনি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টসহ তাকে দেখেন এবং ব্যবস্থাপত্রে আরও ঔষধ লিখে দেন।

ঔষধ খাবার পর লুবনা খানমের শরীরের প্রবল জ্বর আসে। মুখমন্ডল সহ শরিরের বিভিন্ন স্থান ফোলে যায়। এমতাবস্থায় গত ১৯/০৬/১৭ইং আমার স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় ডাঃ তারেক আহমদ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে গেলে তিনি আমার স্ত্রী ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে বলে ব্যবস্থাপত্রে আবারও ঔষধ লিখে দেন। ঔষধ খেয়ে আমার স্ত্রীর শরীরের আরো অবনতি হয় এবং খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

আমার স্ত্রীর অবস্থা বেগতিক দেখে আমি চিকিৎসার জন্য গত ২০/০৬/১৭ইং আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার শহরের জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিঃ-এ ভর্তি করলে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসাবে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডাঃ রেজাউল করিম মীর-কে কল করে আনে। ডাঃ রেজাউল করিম মীর রোগীকে দেখে “চিকেন ফক্স” রোগে আক্রান্ত মর্মে ব্যবস্থাপত্র দেন। তার ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ সেবনের পর আমার স্ত্রীর দুই চক্ষু দিয়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গসহ সমস্ত শরীর ফেটে রক্তপাত হতে থাকে। সেইসাথে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন দেখা দেয়। রোগীর অবস্থা আশংকাজনক দেখে পরদিন জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আরেকজন চিািকৎসক ডাঃ স্বপন কুমার সিংহকে কল করে আনলে তিনি রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়া সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার না করে অবৈধ লাভের আশায় রোগীকে আরও ২ দিন জেনারেল হাসপাতালে রোখে চিকিৎসা করেন। তথাপিও আমার স্ত্রীর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকলে এবং চক্ষু ও মুখ দিয়ে অনবরত রক্তপাত হচ্ছে দেখে ডাঃ রেজাউল করিম মীর ও ডাঃ স্বপন কুমার সিংহ গত ২৩/০৬/২০১৭ইং রাতে “চিকেন ফক্স” মন্তব্যসহ ছাড়পত্র দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

আমি স্ত্রীকে নিয়ে ২৩/০৬/২০১৭ইং দিবাগত রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবার পর রোগীর ব্যবস্থাপত্রে “চিকেন ফক্স” লেখা থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ভর্ত্তি না করায় আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমার মূমুর্ষ স্ত্রীকে নিয়ে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সিলেটের একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে সিলেট শহরের পূর্ব শাহীঈদগাহ এলাকার সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করতে সক্ষম হই। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে “ড্রাগ রি-এ্যাকশন” এর ফলে রোগীর

অবস্থা আশংকাজনক হয়েছে বলে জানান এবং “ড্রাগ রি-এ্যাকশন” মর্মে ছাড়পত্র দিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

সেখানে ২৪/০৬/১৭ইং দুপুরে রোগীকে ভর্তি করে ০৬/০৮/২০১৭ইং পর্যন্ত চিকিৎসা করা হয়। ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ড্রাগ রি-এ্যাকশনের ফলে রোগীর দুই চক্ষু এবং শরীরের সমস্ত অঙ্গে পচন ধরেছে দেখে রোগীকে প্রথমে স্কীন বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরবর্তীতে চক্ষু বিভাগে স্থানান্তর করে চোখের চিকিৎসা করেন। দীর্ঘ ১ মাস ১৩ দিন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আমার স্ত্রীর শরীরের ক্ষতস্থানের কিছুটা উন্নতি হলেও দুই চক্ষুই অন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে ঢাকায় বা অন্যত্র চক্ষু হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।

আমি চোখের চিকিৎসার জন্য গত ১৩/০৮/১৭ইং আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক রোগীর চোখের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে রেফার করেন। আমি স্ত্রীকে নিয়ে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। পরবর্তীতে আবার আমার স্ত্রীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে গত ১১/০৯/২০১৭ইং তারিখে ভর্তি করে ২৫/০৯/২০১৭ইং পর্যন্ত চিকিৎসা নেই। পরে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে পুনরায় ঢাকা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং অদ্যাবধি ইসলামিয়া হাসপাতালের তত্ব্যাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

ইতোমধ্যে আমি আমার স্ত্রীকে ঢাকার ভিশন চক্ষু হাসপাতালে নিয়া চিকিৎসা করাই এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক দেখাই। তারা আমার স্ত্রী ভবিষ্যতে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে কিনা সে মর্মে কোন সিদ্ধান্ত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বর্তমানে আমার স্ত্রীর দুই চক্ষুতে দীর্ঘ ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ আমার স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লিখিত ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা, ক্ষতিকারক ঔষধ প্রয়োগ, অবহেলা, চিকিৎসার নামে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আদায়ের হীন মানসিকতার ফলে এবং বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রোগীকে যথাসময়ে অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার না করে খামখেয়ালীভাবে একের পর এক অতিমাত্রায় ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগের ফলে আমার স্ত্রীর ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চিত ও দুটি চক্ষু অন্ধ হয়ে গেছে। আমি দীর্ঘ ৭ মাস যাবৎ আমার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তার, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াত এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করে নিঃস্ব ও সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি এবং আমার স্ত্রীর দুটি চক্ষু হারিয়ো অন্ধ হয়ে গেছে। আমি ইদানীং আমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে আসার পর কয়েকজন নিয়ে ওই ডাক্তারগণকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোন সদুত্তর না দিয়ে তাহাদের কৃতকর্ম স্বাভাবিক কর্ম উল্লেখ করে আমাদেরকে সামনে থেকে চলে যেতে বলেন।

উল্লেখিত ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা, ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগ এবং অবহেলা, উদাসীন কার্যকলাপ, রোগীকে জিম্মি করে টাকা উপার্জনের অপকৌশলের কারণে দুটি চক্ষু অন্ধ হয়ে আমার স্ত্রী আজ অমানবিক পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়েছে। অথচ বিষয়টি তাদের নজরে আনায় ওই ডাক্তারগণ আমার সাথে অমানবিক অসদাচরণ করায়, অপমানে, রাগে, দুঃখে কাতর হয়ে আমি গত ১১/১২/২০১৭ইং ওই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১নং আমল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।

ডাক্তারের অমানবিক কর্মকান্ডের বিষয়টি সরকার ও সমগ্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে বিচারের দাবী করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com