শাবাব-মাহি হত্যাকান্ডের একমাসেও ধরা পড়েনি মূল আসামীরা

ওমর ফারুক নাঈম॥ মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাব ও ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহি হত্যার একমাস পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা ধরা পড়েনি। এতে নিহতদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
৭ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যার পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের ফটকের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আলী শাবাব এবং মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদ আহমদ মাহি। ঘটনার দুদিন পর ৯ ডিসেম্বর নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করে। তবে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী আনিসুল ইসলাম তুষার এখনও গ্রেফতার হয়নি। ঘটনার ১মাসেও মূল আসামিরা ধরা না পড়ায় হতাশ নিহতদের পরিবার
মামলারবাদী ও নিহত শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরীর অভিযোগ, আসামীদের অবস্থান জানার পরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না। নিহত শাবাবের মা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলাতে পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবেও সুপারিশ করেছেন। তবে খুনের মামলার দ্বিতীয় আসামী আরাফাত রহমান বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু প্রধান আসামীসহ বাকী আট জনই এখনও পুলিশের নাগালের বাহিরে।
শাবাবের মা আরোও বলেন, “আসামী গ্রেফতার করতে মডেল থানার ওসি সুহেল আহাম্মদের সাথে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, আসামীরা ইন্ডিয়াতে চলে গেছে। যার কারনে তাদের গ্রেফতার করতে পারছি না। তাহলে কিভাবে আরাফাত বৃহস্পতিবার দিনে-দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করল। তিনি আরোও বলেন, মনে হচ্ছে জোড়া খুন নিয়ে পুলিশের কোনো মাথা ব্যথা নেই। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত একমাস ধরেই শুধু আশার বাণীই শুনাচ্ছেন। বাস্তবে আসামীদের ধরতে পুলিশ সক্রিয় নয়”।
পুলিশ ও ক্ষমতাশীল দলের নেতাদের ভুমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। তারা বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে আসামীদের গ্রেফতার করতে পারতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা আড়ালে রয়েছে। সুশীল সমাজের মন্তব্য যদি আসামীদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে পাল্লা দিয়ে শান্তির শহরে অপরাদ আরোও বেড়ে যাবে। অপরাধীদের হাতে দিনে-দুপুরে জীবন দিতে হবে মাহি ও শাহবাবের মতো আরোও অনেককে।
এ পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মামলার ৮নং আসামী কনক, ৫নং আসামী আল-জামিল ও ৭নং আসামী রুবেল মিয়া। ২নং আসামী আরাফাত রহমান আদালতে আত্মসমর্ণপন করেছেন। ৮নং ও ৫নং আসামী অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকায় আদালত ওই দু জনকে ঢাকা গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। বাকী দুই জনকেই মৌলভীবাজার কারাগারে রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় আসামীদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। আসামীদের না ধরতে উপর মহলের চাপ নেই। খুনিরা আত্ম গোপনে থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। ওরা দেশে না বাহিরে চলে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়ত দু-একজন বাহিরে যেতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত নয়।



মন্তব্য করুন