শাহ মোস্তফা (র:) উরুসের মেলায় দোকানীর কাছ থেকে মাত্রারিক্ত ভাড়া আদায়!

ওমর ফারুক নাঈম॥ মৌলভীবাজারের হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর ৬৭৭ তম উরুসের মেলায় মাত্রারিক্ত দোকান ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উরুস উদযাপন কমিটির শর্তানুসারে প্রতি বর্গফুটে ৩টাকা হারে ভাড়া আদায়ের নির্দেশ থাকলেও মেলা কমিটি দোকান ভাড়া গ্রহণ করছে ইচ্ছে মত। আর অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিপাকেও পড়তে হয়েছে দোকানীদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর উরুস উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে দরগাহ মহল্লা এলাকার মোঃ নজরুল ইসলাম মনাকে মেলার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মেলা ব্যবস্থাপনার এই দায়িত্ব নেওয়ায় নজরুল ইসলাম মনা দরগাহ মসজিদ তহবিলে ৪ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা প্রদান করেন। আর মেলার এই দায়িত্ব গ্রহণ করায় উরুস উদযাপন কমিটি ১১টি শর্ত জুড়ে দেয়। এই শর্তাবলীর ৭নং শর্ত হচ্ছে প্রতি বর্গফুটে ৩ (তিন) টাকা হারে ভাড়া আদায় করার জন্য এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু মেলা কমিটি দোকান প্রতি দুই থেকে তিন হাজার এমনকি দশ হাজার টাকা এবং অনির্দিষ্ট হারে মাত্রারিক্ত ভাড়া আদায় করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৪ জানুয়ারী দুপুর থেকেই একে একে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানগুলো বসতে থাকে। দোকান বসার পরপরই মেলা অফিসের লোকজন টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অনেক দোকানী অভিযোগ করে বলেন, এখানে তারা ডাকাতি লাগাইছে। বেছতাম (বিক্রি) পারছি না ২০০ টেকা অথচ ভাড়া চাইয়া বই থাকছে দুই হাজার টাকা। আর জীবণেও এই মেলাত দোকান লইয়া বইতাম নায়। আরেক পিঠা দোকানী আজিদ বলেন, রাস্তাত বইছি তার পরেও ৩শত টাকা ভাড়া চায়। পরে দোকানীর রশিদ দেখা যায় ১৫০ টাকা লিখা। দোকানী বলেন তারা আমার কাছ থেকে ৩শত টাকাই নিছে। এছাড়াও রাতে মেলায় হিজড়াদেরও চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে। কিন্তু মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা এর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। খই নিয়ে বসা আবু বক্কর নামের এক দোকানী বলেন, আমরা দু’টাকা লাভের আশায় মেলা আসছি, অথচ হিজরারা এসে জোর পূর্বক খই নিয়ে চলে যাচ্ছে, বাঁধা দিলে গালমন্দ করে, মেলা কমিটি এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক শেখ নজরুল ইসলাম মনা বলেন, উরুস কমিটির শর্ত অনুসারে যে ভাড়া দেয়া হয়েছে এই অল্প টাকায় পুষায় না। আর মেলা থেকে বেশী লাভ হয় না। যা লাভ হয় তা এলাকার মুরব্বিদের ভাগ করে দেয়া হয়।



মন্তব্য করুন