জেলা শহরে গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক রেষ্টুরেন্ট : ক্লাস ছেড়ে রেষ্টুরেন্টে তরুণ-তরুণীর আড্ডা

February 14, 2018,

হোসাইন আহমদ॥ প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিকেরও বেশি চায়নিজ এন্ড বাংলা রেষ্টুরেন্ট। যার কারণে স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ক্লাস ছেড়ে চায়নিজ রেষ্টুরেন্টে বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে ভীড় জমাচ্ছে। শিক্ষক ও অভিবাবকদের ফাঁকি দিয়ে রেষ্টুরেন্টে কাঠাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
১৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে শহরের একাধিক চায়নিজ ও বাংলা রেষ্টুরেন্ট ঘুরে দেখা গেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হয়েছে এসব রেষ্টুরেন্ট। বিশেষ ছাড়ে তরুণ-তরুণীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় খাবারের মেন্যু। যুগলের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ইতি মধ্যে অনেকেই পার্টির জন্য বুকিং দিয়েছেন আবার কেউ কেউ ফোনে খাবারের মেন্যু সম্পর্কে খোঁজও নিচ্ছেন। মালিকরা আসা করছেন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে তরুণ তরুণীদের মিলন মেলা ঘটবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই সকল শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে মাদকসহ নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। হাত খরচের টাকা সংগ্রহ করতে জড়িয়ে পড়ছে অনৈতিক কাজে। ফলে জেলা জুড়ে বাড়ছে খুন, হত্যা, ধর্ষন, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম। রেষ্টুরেন্টগুলো প্রেমিক যুগলের নিরাপদ আশ্রয়স্থলেও পরিণত হয়েছে। প্রেমিক যুগল নিরাপদে ডেটিং করতে রেষ্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ছোট ছোট খোঁফ। রয়েছে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। এখানে বসে নিরাপদে সারতে পারে সকল অনৈতিক ও অসামাজিক কাজ। খোঁফের ভীতরে প্রেমিক যুগল কি করছে বাহির থেকে বুঝাও মুশকিল। রেষ্টেুরেন্টের বয় খোঁফে প্রবেশ করতে হলে নিতে হয় তাদের অনুমতি।
একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে এসএসসিতে এপ্লাস বা এগ্রেড পেয়ে যে সকল শিক্ষার্থীরা এইচএসসিতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে তাদের এক চতুর্থাংশও এইচএসসিতে এপ্লাসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ২০১৭ সালে মহিলা কলেজে ১৩৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাবলিক পরীক্ষায় একটিও এপ্লাস আসেনি।

এ বিষয়ে হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিবাবকদের আরোও সচেতন হতে হবে।
এবিষয়ে জেলার সচেতন নাগরিক এডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী, সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ ও বকশি ইকবাল আহমদসহ আরোও কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রশাসন, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা সচেতন না হলে এভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চায়নিজ রেষ্টুরেন্টে সময় অপচয় করে ধ্বংস হয়ে যাবে। মেধা শূন্য হয়ে পড়বে আগামী প্রজন্ম।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com