অজ্ঞানপাটির খপ্পরে দুই পরিবার ॥ মালামাল লুট

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে দুইটি বাড়ির লোকাজন অজ্ঞান করে মালামাল লুঠ করছে লুটেরাদল। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জনকে অচেতন অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
১৫ জুলাই রবিবার ভোর রাতে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সবুজবাগ এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান, শ্রীমঙ্গল থানার এস আই রাব্বি।
সবুজবাগ এলাকার পরিমল দাশ জানান, আজ ভোর রাতে তার প্রতিবেশি সুজিত কুমার দাস ও কাজল বর্ধনের দুটি বাড়িতে ঘরের সব কিছু তছনছ করে বাড়ির গুরুত্ব পূর্ণ জিনীসপত্র নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।
সুজিত কুমার দাশ জানায়, শনিবার রাতে প্রতিদিনকার মতো রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় সোয়া মাত্রই প্রচন্ড ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। পরে ভোর রাতে একটা শব্দ শুনে ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু বিছানা থেকে উঠার চেষ্ঠা করেও উঠতে পারেননি। শরীর পুরোটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। পরে সকাল বেলা কোন রকমে উঠে দেখেন ঘরের সব কিছু লন্ডভন্ড। বাড়ির জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ঘরে থাকা আড়াই ভরি স্বর্ণলঙ্কার ও নগদ টাকা সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল মালামাল নিয়ে যায়। সকাল বেলা সুজিত দাসের মা হেনা রানী দাশ, স্ত্রী অর্পিতা দাশ, ও ভাই সুকেন্দু দাশ কে শ্রীমঙ্গল সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার মা ও স্ত্রী অচেতন অবস্থায় আছেন। সবাইকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাশের বাড়ির কাজল বর্ধন জানায়, তাদের পরিবারের সকলেই রাতে খাবার পর বিছানায় পড়ার পর ঘুমিয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে মানুষের ডাকে কোন রকমে ঘুম ভাঙ্গে। সে জানায় ঘুমানোর পর তাদের আর কিছু মনে নেই। অচেতন অবস্তায় সারারাত কাটিয়েছে তারা। তার দুই সন্তান সৃষ্টি বর্ধন ও বিবেকানন্দন বর্ধনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে আনা হয়েছে। তারা একটু সুস্থ্য আছে। সে জানায় বাড়ির সামনের জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে বাড়িতে থাকা ৪ ভড়ি স্বর্ণলঙ্কার , বাড়ির দলিল, ও গুরুত্বপূর্ণ জীনিসপত্র নিয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার এস আই ফজলে রাব্বি জানায়, তারা ( পুলিশ) ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে খাবারে অজ্ঞান করার স্প্রে ব্যবহার হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দুস্কিতিকারীদের ফেলে যাওয়া একটি সংযোগ ছাড়া মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে।
অসুস্থ ৬জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা কিছুটা উন্নতিহওয়ায় তাদের বাড়িতে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম।



মন্তব্য করুন