বিচিত্র রঙ্গা উড়ন্ত কাঠবিড়ালীর সন্ধান লাভ

July 19, 2018,

বিকুল চক্রবতী॥ শ্রীমঙ্গলে বিরল প্রজাতির একটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৮ জুলাই বুধবার দুপুরে স্থানীয় ফটোগ্রাফার কাজল হাজরা প্রাণীটিকে পেয়ে শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে দেন বলে জানান, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব।
কাজল হাজরা জানান, শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের রাস্তার পাশে হঠাৎ করে একটি ছোট চকচকে প্রাণী দেখতে পেয়ে তিনি প্রাণীটি হাতেনেন। এ সময় তার কাছে এটি অসুস্থ বলে মনে হলে প্রাণীটিকে তিনি তার বাসায় নিয়ে আসেন। পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন এটি কাঠবিড়ালী প্রজাতির। পরে তিনি বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে গেলে এটি বিরল প্রজাতির বিচিত্র রঙ্গা উড়ন্ত কাঠবিড়ালী হিসেবে সনাক্ত করেন বণ্যপ্রাণী সংরক্ষনবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব জানান, এই প্রানীটির নাম বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালী। এর বয়স অনেক কম কাঠবিড়ালীর বাচ্চা। যেখান থেকে এটিকে পাওয়া গেছে সেখানে ছাড়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি অসুস্থ সুস্থ হলে তার স্ব স্থানে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
তিনি জানান, বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালীকে কেউ কেউ ‘উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি’ বলে থাকেন। এটি একটি বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায়। এর ইংরেজী নাম পার্টিকালারড ফ্লাইং স্কুইরাল (particolored flying squirrel) এবং বৈজ্ঞানিক নাম হাইলোপেটিস অ্যালবোনিগার (Hylopetes alboniger) ।
উড়ন্ত কাঠবিড়ালি মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ২৫-৩০ সেমি এবং লেজ ২৫-৩০ সেমি হয়ে থাকে। কান তুলনামূলকভাবে বড়, এদের চ্যাপ্টা লেজ স্পষ্ট ডিস্টিকিউয়াস, দেহের পার্শে কালচে-বাদামি এবং নিচ সাদা। লেজ ধুসর থেকে ধুসর বাদামি, লেজের গোড়া ফ্যাকাশে, আগা গাঢ় রঙের। পা গাঢ় বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক পিঠ কালো ও দেহতল সাদা। উড়ন্ত কাঠবিড়ালী নিশাচর ও বৃক্ষবাসী প্রানী। মাটিতে তেমন একটা নামে না। গাছ থেকে গাছে উড়ে বেড়ায়। গাছের কুড়ি, ফুল, পাতা ইত্যাদি খেয়ে বেচে থাকে। সিলেট ও চট্রগ্রামের চির সবুজ বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়।
তিনি বলেন, বিচিত্র রঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এক গাছ থেকে অন্য গাছে দেড় শ থেকে দুই শ ফুট দূরত্বে লাফাতে পারে। ওড়ার সময় পেছনের লেজকে এরা লাগাম হিসেবে ব্যবহার করে। সাধারণভাবে এদের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১২ বছর। তবে তাদের বসবাসের নিরবিচ্ছিন্ন পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে এদের গড় আয়ু এখন কমে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com