শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টানা ৭ দিন ধরে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের ময়লা অপসারণ না হওয়ায় পুরো শহর রুপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে

October 8, 2018,

বিকুল চক্রবতী॥ পর্যটনশহর শ্রীমঙ্গলের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারন এর দাবীতে গত সাত দিন ধরে সেখানে ময়লা ফেলতে দিচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। আর ময়লা ফেলতে না দেয়ায় পুরো শহরই এখন পরিনত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।  এর ফলে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটক, শহরের ব্যবসায়ীরা দূর্গন্ধ অতিষ্ঠ।

এ কারনে প্রতিদিনকার জমে উঠা বর্জ্যে শহরের চৌমুহনা চত্বর, সিন্ধুরখাঁন সড়ক, কলেজ সড়ক, কালিঘাট সড়ক, ভানুগাছ সড়ক, গুহ সড়ক, সাগরদিঘি সড়ক হবিগঞ্জ সড়ক, মৌলভীবাজার সড়ক, রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক, শাপলাবাগ, কোট রোড ও মাস্টার পাড়ার মুখসহ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে জমে উঠছে ময়লার পাহাড়। দুর্গন্ধময় ও ময়লা – আবর্জনায় ভরপুর থাকায় পর্যটকসহ এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা অনেকটা বিষিয়ে উঠেছে।

এদিকে সামনে সনাতন ধমীলমস্বীদের প্রধানধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। পুজা উপলক্ষে পরিবার -পরিজন নিয়ে কেনা কাটা করতে শহরমুখী হচ্ছেন মানুষ। রাস্তার পাশে ময়লা থাকায় পায়ে হাটা ও গাড়ী পার্কিংএর পরিবেশ না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

অপর দিকে এর সমাধানে তিন দিন আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী ও কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দারা এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সিন্ধান্ত হয়, আগামী ৬ মাস,  পূর্বের স্থানেই ময়লা ফেলা হবে। ওই সময়ে বিকল্প ময়লা ফেলার স্থানটিকে উপযুক্ত করে তুলা হবে। তবে ওই সভার সিন্ধান্তে কলেজ রোডের বাসিন্দারা আস্যস্ত হতে পারেননি। এর কারন হিসেবে কলেজ রোডের বাসিন্দা শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন জানান, এর আগেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। ১৫ দিনের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কথা বলে দেড় বছরেও তা সরেনি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় অপসারন নিয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের কেউ ছিলো না। মৌখিক সিন্ধান্তের কথা আমরা শুনেছি কিন্তু কোন লিখিত কিছু পাইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও শর্তস্বাপেক্ষে সবাই মিলে জনহিতকর সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

শহরে ময়লা জমে দূর্গন্ধ বেরোচ্ছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে  আব্দুল মোতালেব ও শ্রীমঙ্গল দি বাডর্স রেসিডেন্টশিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র  শাকিল বলেন, শহরবাসী যদি এই কয়েকদিন ময়লার গন্ধ সহ্য করতে না পারেন, তাহলে বছরের পর বছর আমরা শিক্ষার্থীরা কিভাবে এসব সহ্য করে আসছি ? এর সমাধারন এখন সময়ের দাবী।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্যানেল মেয়র মীর এম এ সালাম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভাগাড়ের চারদিকে টিনের বেড়া দেওয়ার কাজ করতে গত শনিবার ময়লার ভাগাড়ের সামনে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করেছে। রোববার শহরবাসীর কথা চিন্তা করে আমরা শহরের কিছু কিছু জায়গা থেকে ময়লা নিয়ে রেলওয়ের একটি খাদে ( বড় গর্তে) ফেলেছি। তিনি জানান, পৌর মেয়র মহসিন মিয়া দেশের বাহিরে  আছেন। তিনি আসলে আমরা পৌরবাসীকে নিয়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য পুনরায় আলোচনায় বসে এর সমাধানের চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য প্রায় ৫০ বছরের পুরাতন এই ময়লার ভাগাড়টি ওই শিক্ষা প্রতিষ্টানের সামনা থেকে সরানোর জন্য বিগত ১৫ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে কলেজ রোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান আলম জানান, কলেজ রোডের ময়লার ভাগারের সামনে বড় বড় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্টান, একটি মাদ্রাসা, ২টি মসজিদ, একটি মন্দির ও কয়েকশত বাড়িঘর বিদ্যমান। ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া সময়ের দাবী।

 এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মহসীন মিয়া মধু মোবাইল ফোনে  জানান, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের জেটিরোড উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় নতুন ভাগাড় স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহন করা হয়। এর পর হাই কোটে রিট হলে সেখানে কাজ শুরু করা যায়নি।  মধ্যখানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও ওই এলাকাবাসী ২০১৭ সালে পুনরায় রিট করায় ও এলাকাবাসীর বাঁধার কারনে সেখানে ময়লা ভাগাড় স্থাপনের কাজ শুরু করেও সামনের দিকে এগুনো যায়নি।

 এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানান, বর্তমানে যেখানে ময়লার ভাগাড় আছে এটিও তার ইউনিয়নে নতুনটিও তার ইউনিয়নে পড়েছে। দুই এলাকার মানুষই আন্দোলিত। এখন এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তৃতীয় কোন স্থান নির্ধারণ। তিনি জানান, বর্তমানে যেখানে ময়লার ভাড়াড়ের স্থান নির্ধারন করা হয়েছে সেখানে দুইশত বছর ধরে লোকজন বসবাস করছে। আর যেখানে আছে সেখানেও শ্রীমঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্টান। সরকারের সংশ্লিষ্ঠদের বিষয়টি বিবেচনা করে তৃতীয় স্থান নির্ধারন জরুরী। তবে প্রশাসনের সিন্ধান্তে তার দ্বিমত নেই বলেও জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com