শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান ব্যবসায়ী নেতা কামাল হোসেন

January 29, 2019,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে চান জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে দলটি জন্মলগ্ন থেকে সম্পক্ত কামাল হোসেন দলটির  প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা জাতীয় যুবসংহতির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সাধাণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবেন।

সোমবার ২৮ জানুয়ারি রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের মৌলভীবাজার সড়কে অবস্তিত নিজ কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপকালে তার এই মনোভাবের কথা জানান।

এসময় তিনি বলেন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও সাধারণ মানুষ এটাকে দলীয়ভাবে নেবেনা কারন এটি ব্যক্তি ইমেজের কারনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে। আমি শতভাগ আশাবাদি শ্রীমঙ্গলে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সুষ্টু হওয়া নিয়ে , কারন এটি পার্লামেন্ট নির্বাচন নয় এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমি ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে আশার পূর্বে আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল সেটা হল, পুরো শহরের ব্যবসায়ীদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার আলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আশা, সেটা আমার এবং ব্যবসায়ীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি, বিভিন্ন দাবি দাওয়া আর  আন্দোল সংগ্রামের প্রেক্ষিতে আমার আরেকটি ভিষন ছিল শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে, সেটাও আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন শ্রীমঙ্গলে চা শ্রীমঙ্গলেই থাকছে।

নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও  ভোট গননা পর্যন্ত আমি নির্বাচনে থাকবো, জয় পরাজয়ে এখানকার ব্যবসায়ীরা বড় একটি ফ্যক্ট। কামাল হোসেন বলেন আমি দল হিসেবে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে লড়বো। কারন আমি বিশ্বাস করি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তাতে জয়ী হওয়া সম্ভব হবেনা। বিগত বছরের নির্বাচনগুলোতে আমি সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবার প্রায় ৩৫ হাজার ভোট আর সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে আমাকে ইচ্ছে করে পরাজিত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন এবারের নির্বাচন একটু কঠিন হবে, কারন যেহেতু আমি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাই এখানকার শীর্ষ ব্যবসায়ীদেও প্রায় ৮০ শতাংসই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে ভোট দেবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট গত নির্বাচনে আমি পেয়েছি আশা করি এবারো আমি তাদের সমর্থন পাবো তবে আমি মনে করি সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই।

কামাল হোসেন বলেন জনপ্রতিনিধি না হয়েও আমি সামাজিক কর্মকান্ডে সবসময় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি, নিজ এলাকায় সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি, পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় সাধ্যানুযায়ী সাহায্য সহযোগীতা অব্যাহত ভাবে দিয়ে আসছি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বসার ব্রেঞ্চসহ হিন্দু সম্প্রদায়ে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সহায়তাও করে আসছি। আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে আমি পরিবেশ ,শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রদক্ষেপ গ্রহন করবো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াবাজারের রাজাপুর গ্রামে ১৯৬৭ সালে জন্ম নেয়া কামাল হোসেন লেবু বাগান ও রিয়েলষ্টেইট ব্যবসা করে খুব কম সময়ের ব্যবধানে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচনায় আসেন। জায়গা করে নেন শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতিতে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়ে ইতি মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তার শুভাকাঙ্খিরা, এই নির্বাচনে তাকে জয়ী করার প্রত্যয়ও তাদের।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com