শ্রীমঙ্গলে দশ হেক্টর ফসলী জমিতে আবাদ বন্ধ, কৃষকের বিলাপ

January 31, 2019,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গলে পানির অভাবে উপজেলার ইছবপুর এলাকার হাইল হাওর সংলগ্ন প্রায় দশ হেক্টর ফসলী জমিতে বর্তমানে আবাদ বন্ধ রয়ছে। মূলত উপজেলার জাগছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির চালনাধীন সরকারীভাবে নির্মিত সুইচগেইট দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ করে রাখার ফলেই এমনটা হচ্ছে বলে জানা যায়।

এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিবছর বোরো মৌসুমে (পৌষ থেকে ফাল্গুন) সুইচগেইটের পানির মাধ্যমে আমরা কাজ করে থাকি। কিন্তু এ বছর টাকা (চাঁদা) না দেওয়ার অজুহাত তুলে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক পানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। সমিতির কতিপয় ব্যক্তিদের মিথ্যাচারের কারনে পানির অভাবে বোরো চাষের মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসলের বীজতলাসহ পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি না থাকার কারণে ফসল ফলাতে না পারায় আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ধানচাষে। এদিকে পানির অভাবে প্রায় দশ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রুপন করতে না পারায় জমির কৃষকরা মাঠে বসেই বিলাপ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, ফসলের মাঠে পানি না থাকলে চাষাবাদ হবে না। কিন্তু এবিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা উল্টো একর প্রতি ৪শ টাকা করে না দিলে কৃষকদের পানি দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আমরা ৫০ জন কৃষক অভিযোগ জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি। এছাড়া এখানে প্রভাবশালী বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের সাথে সমঝোতা করে এই কাজ করেছে। কারণ ধানক্ষেতে পানি দিলে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল ফলায়। ফসল ফলালে তারা ক্ষেত থেকে মাটি ও ছড়া থেকে বালু তুলতে পারে না।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান মিয়া বলেন, আমি গতবছর এই এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় বিশ হাজার টাকা চাঁদা তুলে ¯¬ুইচ গেইট সমিতির কাছে দিয়েছিলাম। এবার নানা অজুহাতে পানি দেওয়া বন্ধ রেখেছে তারা। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা কৃষকদের নিয়ে ¯¬ুইচ গেইট সমিতির সাথে সংলাপে বসার কথা বলছি কিন্তু তারা সময় দিচ্ছে না। এদিকে পানি না থাকায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, পানি বন্ধ রাখার কোন নিয়ম সমিতির কোন কর্তা-ব্যাক্তির নেই। আমার উপ-সহকারীর মাধ্যমে কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সাথে বসার জন্য একটি তারিখ চেয়েছি। সমস্যাগুলো জানার জন্য আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে একসাথে বসতে চাচ্ছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা আমার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আমি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com